ক্ষমতায় এসেই ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হলেন ‘এল টাইগ্রে’

মার্কিন নাগরিক থেকে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-০৯, | ১১:৩০:১৩ |

কলম্বিয়ায় ক্ষমতার পালাবদলের পর দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলর্দো দে লা এস্প্রিয়েলার সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশটির জন্য ১০০ কোটি ডলারের নিরাপত্তা সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

শনিবার কলম্বিয়ার সাবেক একটি সামরিক ঘাঁটির কাছে জাঁকজমকপূর্ণ অভিষেক অনুষ্ঠানে শপথ নেন দে লা এস্প্রিয়েলা। ভাষণে তিনি সশস্ত্র অপরাধী ও মাদক কার্টেলের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ এবং কঠোর দমননীতির অঙ্গীকার করেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ দমন ও অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণসহ অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে নতুন কলম্বিয়ান প্রশাসনকে সহায়তা করবে এই নিরাপত্তা প্যাকেজ।

দে লা এস্প্রিয়েলার আগে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন বামপন্থী নেতা গুস্তাভো পেত্রো। তাঁর মাদক নিয়ন্ত্রণ ও সীমান্ত নীতির কঠোর সমালোচনা করে আসছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

‘বাঘের যুগ’ ঘোষণা

রাজনৈতিক ঐতিহ্য ভেঙে রাজধানী বোগোতার পরিবর্তে পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কালিতে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন আইনজীবী ও ব্যবসায়ী দে লা এস্প্রিয়েলা। নিজেকে ‘এল টাইগ্রে’ বা ‘বাঘ’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া এই নেতা ঘোষণা করেছেন, তাঁর মেয়াদ হবে ‘বাঘের যুগ’।

সেনাসদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া প্রথম বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ন্যায্যতা বা শক্তি, যেকোনো উপায়ে গণতন্ত্র রক্ষা করা হবে এবং সশস্ত্র বিদ্রোহীদের গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ভূখণ্ডের একটি স্থানেও অপরাধীরা নিজেদের নিরাপদ মনে করতে পারবে না।’

বিশ্লেষকেরা বলছেন, দে লা এস্প্রিয়েলার এই কঠোর অবস্থান এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নাইব বুকেলে এবং ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট দানিয়েল নোবোয়ার কঠোর অপরাধ দমন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

পেত্রোর নীতির পুরো বিপরীত

দে লা এস্প্রিয়েলার নীতি তাঁর পূর্বসূরি গুস্তাভো পেত্রোর নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত। পেত্রো তাঁর মেয়াদে ‘সামগ্রিক শান্তি’ নীতির ওপর জোর দিয়েছিলেন। এতে সামরিক অভিযানের পরিবর্তে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আলোচনা এবং কোকা চাষিদের বিকল্প ফসল চাষে উৎসাহ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল।

তবে সমালোচকদের দাবি, পেত্রোর এই কৌশল ব্যর্থ হয়েছে। সম্প্রতি কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলা সীমান্তে প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতায় হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একই সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতাও বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনও দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক ও অবৈধ অভিবাসী প্রবেশের জন্য পেত্রোর নীতিকে দায়ী করে আসছিল।

ক্ষমতায় এসেই দে লা এস্প্রিয়েলা ঘোষণা করেছেন, কলম্বিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিষ্ঠিত ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকাস’ সামরিক ও নিরাপত্তা জোটে যোগ দেবে। গাজা সংকটের কারণে পেত্রোর সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কও পুনঃস্থাপনের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

লাতিন আমেরিকায় ট্রাম্পের প্রভাব

অর্থনৈতিক সংকট ও গ্যাং সহিংসতার মধ্যে লাতিন আমেরিকায় ডানপন্থী নেতাদের উত্থানের যে ধারা তৈরি হয়েছে, দে লা এস্প্রিয়েলার জয়কে তারই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ওয়াশিংটন এই অঞ্চলে ঘনিষ্ঠ মতাদর্শিক মিত্রদের প্রতি সমর্থন বাড়াচ্ছে। আর্জেন্টিনার লিবারটেরিয়ান প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইকে ইতিমধ্যে ২০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

কে এই ‘এল টাইগ্রে’

গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও কোটিপতি ব্যবসায়ী আবেলর্দো দে লা এস্প্রিয়েলা রাজনীতিতে আসার আগে আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন। এ সময় কয়েকজন প্রভাবশালী সাবেক আধাসামরিক সদস্য ও মাদক ব্যবসায়ীর আইনি প্রতিরক্ষা করে পরিচিতি পান তিনি।

রাজনীতিতে নিজেকে ‘আউটসাইডার’ বা মূলধারার রাজনীতির বাইরের ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন দে লা এস্প্রিয়েলা।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় এক ডানপন্থী প্রার্থী হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার পর তিনি বুলেটপ্রুফ ভেস্ট ও বুলেটপ্রুফ কাচের আড়াল থেকে জনসভা পরিচালনা করতেন।

২০২৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়া দে লা এস্প্রিয়েলা ট্রাম্পের নীতির প্রকাশ্য সমর্থক। কলম্বিয়াকে সাবেক ব্যবস্থার হাত থেকে বের করে আনতে কোনো ধরনের আপস করবেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সূত্র: বিবিসি

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..