নিজ দেশে খেলার অধিকার নেই, তবু থামেনি আফগান নারী দলের স্বপ্ন

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-০৬, | ১৯:২৫:৪৭ |

নিজ দেশে ফুটবল খেলার অধিকার নেই। তালেবান শাসনে জাতীয় দল ভেঙে গেছে, ছড়িয়ে পড়তে হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। তবুও স্বপ্ন হারিয়ে যায়নি আফগানিস্তানের নারী ফুটবলারদের। চার বছরেরও বেশি সময় পর তারা আবার একই জার্সিতে মাঠে নেমেছেন। নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে তাদের এই ফিরে আসা হয়ে উঠেছে সাহস, সংগ্রাম ও আশার প্রতীক।

২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর আফগানিস্তানে নারীদের খেলাধুলা কার্যত নিষিদ্ধ হয়ে যায়। ২০০৭ সালে গঠিত আফগানিস্তান নারী ফুটবল দলটিও ভেঙে পড়ে। নিরাপত্তার কারণে অনেক খেলোয়াড় দেশ ছেড়ে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, পর্তুগালসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।

দীর্ঘ বিরতির পর সেই নির্বাসিত ফুটবলাররাই আবার এক হয়েছেন নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে। ‘আফগান উইমেন ইউনাইটেড’ নামে গঠিত দলটি সেখানে প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি কুক দ্বীপপুঞ্জের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচও খেলেছে।

প্রথম ম্যাচের আগে ড্রেসিংরুমের পরিবেশ ছিল আবেগঘন। দেয়ালে টাঙানো ছিল আফগানিস্তানের জাতীয় পতাকা, বাজছিল জাতীয় সংগীত। বহুদিন পর দেশের প্রতীককে সামনে পেয়ে অনেক ফুটবলারই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।

এই প্রত্যাবর্তনে সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি দিয়েছে ফিফা। চলতি বছরের এপ্রিলে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি সিদ্ধান্ত নেয়, তালেবান সরকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ছাড়াই নির্বাসিত এই দল ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আফগানিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে। ফলে নারী বিশ্বকাপ ও অলিম্পিকের বাছাইপর্বে অংশ নেওয়ার পথও খুলে গেছে তাদের সামনে।

দলের মিডফিল্ডার মানোজ নুরির জীবনসংগ্রাম যেন আফগান নারী ফুটবলের প্রতিচ্ছবি। কাবুলে ছোটবেলায় ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলতেন তিনি। পরিবারের আপত্তির কারণে অনেক সময় মুখ ঢেকে অনুশীলন করতে হতো। পরে জাতীয় লিগে শিরোপা জিতলেও টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দেওয়ার পর পরিবারের চাপের মুখে ফুটবল ছাড়তে বাধ্য হন।

পরবর্তীতে জার্মানিতে থাকা এক ভাইয়ের সহায়তায় আবার ফুটবলে ফেরেন নুরি। তালেবান ক্ষমতায় আসার সময় দেশ ছাড়ার আগে নিজের জেতা পদক ও ট্রফিগুলো বাড়ির বাগানে পুঁতে রেখে আসেন। এখনো সেগুলো সেখানেই রয়েছে। তার বিশ্বাস, একদিন দেশে ফিরে নিজের হাতে সেই স্মৃতিগুলো তুলে আনতে পারবেন।

বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন নুরি। তিনি আশা করেন, একদিন তার পরিবারও বুঝবে ফুটবল খেলা কোনো অপরাধ নয়।

দলের আরেক সদস্য নাজমা আরেফিও কঠিন সময় পার করেছেন। আফগানিস্তানে তীব্র গরমের মধ্যেও নিয়মিত অনুশীলন করেছেন তিনি। পরে তার দল জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হলে হেরাতে নারী ফুটবল নিয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে। বর্তমানে ইংল্যান্ডের ডনকাস্টারে বসবাস করছেন নাজমা। অপরাধবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি ফুটবলও চালিয়ে যাচ্ছেন।

অকল্যান্ডে কুক দ্বীপপুঞ্জের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ১-০ এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ৩-০ গোলে হেরেছে আফগান উইমেন ইউনাইটেড। তবে এই দুই ম্যাচের ফল নয়, আলোচনায় এসেছে তাদের মাঠে ফেরা। নির্বাসন, বিচ্ছিন্নতা আর অনিশ্চয়তার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে আবারও ফুটবলে ফিরেছেন তারা। আর সেটিই প্রমাণ করেছে প্রতিকূলতা যতই কঠিন হোক, আফগান নারী ফুটবলারদের স্বপ্নকে থামিয়ে রাখা যায় না।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..