✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-০২, | ১৯:৩৫:৩৮ |টানা দুই মৌসুমে সম্ভাব্য ছয়টি ট্রফির মধ্যে পাঁচটি জিতে হান্সি ফ্লিকের অধীনে ঘরোয়া ফুটবলে আধিপত্য বজায় রেখেছে বার্সেলোনা। একই সময়ে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ কোনো ট্রফির দেখা পায়নি। যার ফলে চলতি মৌসুমের আগে ব্যাপক দলবদলের উদ্যোগ হাতে নেয় স্প্যানিশ ক্লাবটি।
এই লক্ষ্যে ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ হোসে মরিনহোকে কোচ হিসেবে ফিরিয়ে এনেছেন এবং দলের শক্তি বাড়াতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ক্লাবটি ইতোমধ্যেই ডেনজেল ডামফ্রিস, ইব্রাহিমা কোনাতে, বার্নার্দো সিলভা, মার্ক কুকুরেয়া এবং কার্লোস এসপির সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছে।
তবে শুরু হতে যাওয়া চলতি মৌসুমে তাদের সবচেয়ে বড় দলবদলের ঘোষণাটি সম্ভবত এখনো বাকি রয়েছে। বিশাল অঙ্কের বিনিময়ে আরবি লাইপজিগ থেকে আইভরি কোস্টের ফরোয়ার্ড ইয়ান দিওমান্দের দলে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে বার্সেলোনাও এই ফুটবলারকে দলে ভেড়ানোর ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়েছিল, কিন্তু পরে তারা অ্যান্থনি গর্ডন ও করিম আদেয়েমির দিকে মনোযোগ দেয়।
স্প্যানিশ ক্লাব লেগানেসের সাবেক অধিনায়ক সার্জিও গনজালেস মনে করেন, দিওমান্দে ইয়ামালকেও ছাড়িয়ে যাবেন। ৩৪ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ ফুটবলার দাবি করেন, বার্সা তারকা লামিন ইয়ামালের পর্যায়ে পৌঁছানো বা তাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মতো সক্ষমতা দিওমান্দের রয়েছে।
দিওমান্দে কি একদিন লামিন ইয়ামালের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবেন সার্জিও গনজালেসকে এমন প্রশ্ন করা হয়েছিল। এই প্রশ্নের জবাবে গনজালেস বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি। তিনি বলেন, সত্যি বলতে, হ্যাঁ। শুনতে হয়তো অদ্ভুত মনে হতে পারে, তবে তার অগ্রগতির ধারা দেখে আমি তাকে সেই পর্যায়েই দেখছি।
লেগানেসের সাবেক অধিনায়ক স্বীকার করেন, লামিন ইতোমধ্যেই ফুটবলের অভিজাত মহলে নিজের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সঠিক পথে এগিয়ে গেলে দিওমান্দের সম্ভাবনাও ঠিক ততটাই উজ্জ্বল।গনজালেস আরও বলেন, লামিনের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা বেশি এবং সে দীর্ঘ সময় ধরে নিজেকে প্রমাণ করে আসছে। তবে ইয়ান যদি সেই সুযোগ পায়, তবে আমার মনে হয় সে তার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে, এমনকি তাকে ছাড়িয়েও যেতে পারবে।
এরপর ৩৪ বছর বয়সী এই ফুটবলার রিয়াল মাদ্রিদের পথে থাকা এই উইঙ্গার সম্পর্কে তার মূল্যায়ন অত্যন্ত জোরালো ভাষায় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সে অসাধারণ প্রতিভাবান এবং তার সম্ভাবনা বিশাল। সে এক বিস্ময়কর প্রতিভা। উচ্চ প্রশংসা, তবে লামিনই এখন মানদণ্ড।
লামিন ইয়ামাল এবং ইয়ান দিওমান্দের বয়সই সমান এবং তারা এখন স্পেনের দুটি বৃহত্তম ও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের হয়ে খেলতে যাচ্ছেন। স্বাভাবিকভাবেই এর ফলে তাদের মধ্যে তুলনা করার বিষয়টি সামনে চলে আসছে। তবে দিওমান্দের মতো লামিন কেবল ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল তরুণ প্রতিভা নন।
মাত্র ১৯ বছর বয়সেই তিনি বিশ্বকাপ জয়ী এবং বার্সেলোনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়; পাশাপাশি বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষস্থানীয় আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের একজন হিসেবেও তিনি ব্যাপকভাবে স্বীকৃত।
নিঃসন্দেহে দিওমান্দের মধ্যে দারুণ সব গুণাবলী রয়েছে এবং রিয়াল মাদ্রিদ বিশ্বাস করে, তিনি ইউরোপের পরবর্তী সেরা উইঙ্গারদের একজন হয়ে উঠতে পারেন। তবে বিশ্বের অন্যতম বড় কোনো ক্লাবে সেই সম্ভাবনাকে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে রূপ দেওয়ার জন্য কেবল প্রতিভাই যথেষ্ট নয়।
গঞ্জালেসের মন্তব্য দিওমান্দের জন্য হয়তো প্রশংসনীয়, কিন্তু তিনিই সবার আগে স্বীকার করবেন, লামিনের পর্যায়ে পৌঁছাতে হলে কেবল সাবেক অধিনায়কের স্বীকৃতির চেয়েও অনেক বেশি কিছুর প্রয়োজন। এখন দেখার বিষয় হলো, রিয়াল মাদ্রিদে দিওমান্দে কেমন খেলেন এবং ভবিষ্যতে তিনি কোনোদিন লামিনের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেন কি না।