✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-০২, | ১৬:১৪:৩২ |মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনার জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় তেল উৎপাদনের কোটা বা লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ওপেক প্লাস। রবিবার(২ জুলাই) অনলাইনে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে তেল উৎপাদনকারী সৌদি আরব, রাশিয়া এবং ওপেক প্লাস এর অন্য পাঁচ সদস্য দেশ সেপ্টেম্বর মাসের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
রিস্টাড এনার্জি-র বিশ্লেষক হোর্হে লিওন জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া চলছে, তার ধারাবাহিকতায় ওপেক প্লাস সম্ভবত দৈনিক আরও ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়াতে যাচ্ছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, উৎপাদন সমন্বয়ের বর্তমান প্রক্রিয়ায় সেপ্টেম্বরের এই বৃদ্ধিই সম্ভবত শেষ ধাপ হতে পারে।
২০২২ সালের শেষভাগ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে তেলের দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কায় ওপেক প্লাস তিন ধাপে উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যার ফলে মোট উৎপাদন দৈনিক প্রায় ৬০ লাখ ব্যারেল হ্রাস পেয়েছিল। সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (যা ১ মে এই জোট থেকে বেরিয়ে যায়)। পরবর্তীতে তাদের কৌশল পরিবর্তন করে এবং ২০২৫ সাল থেকে ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়।
সেপ্টেম্বরে উৎপাদন বৃদ্ধির এই পদক্ষেপটি ওপেক প্লাসের চালু করা উৎপাদন কমানোর তিনটি প্যাকেজের মধ্যে দ্বিতীয় প্যাকেজটি প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।
উৎপাদন কোটা বাড়ালেও প্রভাব সীমিত হতে পারে
ইউবিএস-এর বিশ্লেষক জিওভান্নি স্টাউনোভো বলেন, বাস্তবে ওপেক প্লাসের অনেক সদস্য দেশ তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী তেল উৎপাদন করতে পারে না; এর কারণ হলো তাদের ‘উৎপাদন সক্ষমতা হ্রাস পাওয়া’। ফলে উচ্চতর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের বিষয়টি খুব একটা অর্থবহ হয়ে ওঠে না।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সময় ইরানের কারণে হরমুজ প্রণালীতে প্রায় অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলোর পক্ষে রপ্তানি বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়েছে। যদিও জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর জাহাজ চলাচলে সাময়িক বৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল।
রাশিয়ার তেল অবকাঠামোতে বারবার ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে; সেখানে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৯০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদিত হচ্ছে, অথচ তাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল দৈনিক ৯৮ লাখ ব্যারেল। জোটটি আসলে কবে নাগাদ তেলের উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হবে তা এখনো অস্পষ্ট, যদিও ইরাকসহ কয়েকটি সদস্য দেশ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
কোটা নিয়ে কঠিন আলোচনার মুখে জোট
স্টাউনোভো জানান, জোটটি বর্তমানে সকল সদস্য দেশের জন্য সর্বোচ্চ টেকসই উৎপাদন সক্ষমতার মাত্রা নির্ধারণের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ডিএনবি কার্নেগি-র বিশ্লেষকরা বলেছেন, সেপ্টেম্বরে উৎপাদন বৃদ্ধির পর আগামী বছর থেকে নতুন উৎপাদন কোটা নিয়ে ওপেক প্লাসকে সম্ভবত কঠিন আলোচনার মুখোমুখি হতে হবে। আমার মনে হয় না এই মুহূর্তে জোটের সংহতি কোনো ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, মে মাসে এই জোট থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি ওই ক্ষেত্রে একটি দুর্বলতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
এই পদক্ষেপের ব্যাখ্যায় আবুধাবি জানিয়েছে, এটি তাদের জাতীয় স্বার্থ ও দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংযুক্ত আরব আমিরাত তেল উত্তোলনের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বেশ কিছু প্রকল্প ও বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। ফলে ওপেক প্লাস এর কঠোর উৎপাদন সীমার মধ্যে তাদের অবস্থান বজায় রাখার বিষয়টি যৌক্তিক প্রমাণ করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়েছে।
সূত্র: তুর্কি টুডে।