বন্ধুত্বের কোনো সংজ্ঞা নেই, উপসংহার নেই। বন্ধু মানে যেন আপাদমস্তক আরেকটা আমি, আমারই আয়না। অভিধানে বন্ধু হয়তো একটি শব্দ, তবে সেই একটিমাত্র শব্দেরও যে রয়েছে হাজারও অনুভূতির কালিতে লেখা একটি অভিধান। যে আশ্রয় সহজ সুন্দর আর সাবলীল, যেন সব মুশকিল আসান।
শৈশবের বিকাল, খেলার মাঠ, আর ভাগ করে খাওয়া টিফিনের আনন্দ। একসময় হয়তো ঝুলে যায় ধুলোমাখা স্মৃতির ক্যালন্ডারে। অথচ সেই স্মৃতির ভিড়ে কিছু মুখ কখনও পুরোনো হয় না। কিছু নাম কখনও হারায় না।
বন্ধু সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, ও এখন ইউকে-তে, অনেক আগেই চলে গেছে। ওর সঙ্গে এখন আর ওইভাবে দেখা হয় না। কিন্তু সেই সময়গুলো খুব ভালো ছিল। ওকে বলব আই মিস ইউ।
বয়স বাড়ার সঙ্গে বাড়ে বন্ধুর সংখ্যা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, স্কুল থেকে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, নতুন কর্মস্থল- বাড়তে থাকে বন্ধু, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক’জন লেপ্টে থাকে বুকে?
রমনা পার্কে বন্ধু নিয়ে ঘুরতে আসা একজন তাদের বন্ধুত্ব সম্পর্কে বলেন, ২২ বছর পরে আমরা একসঙ্গে রমনায় এসেছি। কিন্তু বন্ধুত্ব আমাদের ৪৫ বছরেরও বেশি। আমরা সেই ছোট্টবেলা থেকে স্কুল ফ্রেন্ড।
আনুষ্ঠানিক কোনো বিদায় নেই, নেই না ফেরার কোনো ঘোষণাও। অদ্ভুত এক সম্পর্ক। বন্ধু মানে যে কাঁধে হাত রেখে সাহস যুগিয়ে বলে- আছি তো, দেখিস সব ঠিক হয়ে যাবে।
একজন পথচারী তার বন্ধুকে নিয়ে বলেন, রাত ১টার দিকে এমনও হয়েছে যে বন্ধুকে আমি ফোন দিয়েছি। বন্ধু আমার ভালো লাগছে না, আমি বাহির হব। বাইক নিয়া আমার বন্ধু রাত ১টার দিকে চলে আসছে।
প্রতিদিন কথা না হলেও দূরত্বে হারায় না সত্যিকারের বন্ধুত্ব। সময়ের হঠাৎ দেখায় মনে হয়, যেন মাঝখানে কাটেনি কোনো সময়, এইতো সেদিনই দেখা হলো।
আরেকজন পথচারীর কাছে বন্ধু সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার ব্যাপারে ওরা কি ভাবে তা আমি জানি না। কিন্তু ওরা আমার কাছে ওপেন ডায়েরি।
সময়ের সঙ্গে মানুষ বদলায়, বদলায় তাদের ঠিকানা। কিন্তু তাদের হৃদয়ের গহীনে কিছু কিছু মানুষ থেকে যায়। যারা আসলে ঠিকানা বদলালে কিংবা সময় বদলালেও বদলে যায় না। কিন্তু যারা থাকে- দেখা না হোক, আড্ডা না জমুক একটা ফোনকল কিংবা ছোট্ট একটি বার্তায় আমরা তো জানতে চাইতেই পারি- বন্ধু কেমন আছিস তুই?