✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-০২, | ১৩:৫৬:০১ |প্রায় চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়া জাপানি মুদ্রা ইয়েনকে স্থিতিশীল করতে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে যৌথভাবে হস্তক্ষেপ করতে যাচ্ছে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র।
সোমবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারেন জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাটায়ামা।
জাপান সরকারের দুই কর্মকর্তা ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, টোকিও ও ওয়াশিংটন সমন্বিতভাবে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে পদক্ষেপ নিয়েছে, যাতে ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দ্রুত দরপতন রোধ করা যায়। বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য দিয়েছেন।
সূত্রগুলোর একজন জানান, অর্থমন্ত্রী কাটায়ামা তার ঘোষণায় দুই দেশের এই বার্তা তুলে ধরবেন যে, ইয়েনের অতিরিক্ত অবমূল্যায়ন ঠেকাতে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। যৌথ হস্তক্ষেপের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ওই কর্মকর্তা বলেন, “হ্যাঁ, অভিযান এখনও চলমান।”
জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করেনি। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগও রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি।
১৫ বছরের মধ্যে প্রথম যৌথ মুদ্রা হস্তক্ষেপ
বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি একাধিক দফায় ইয়েন কেনার মাধ্যমে বাজারে হস্তক্ষেপ করেছে। ২০১১ সালের পর এই প্রথম দুই দেশ যৌথভাবে এমন পদক্ষেপ নিল। এর লক্ষ্য ছিল ১৯৮৬ সালের পর ডলারের বিপরীতে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়া ইয়েনের মান পুনরুদ্ধার করা।
একটি সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে লেনদেন চলাকালে জাপান সরকার ডলার বিক্রি করে ইয়েন কিনেছে। অন্যদিকে ব্যাংক অব জাপানের (বিওজে) তথ্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ইয়েনকে সমর্থন দিতে দেশটি প্রায় ৫৮ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ডলার বিক্রি করেছে।
জাপানের প্রথম দফার হস্তক্ষেপের কয়েক ঘণ্টা পরই ব্যাংক অব জাপান তার মুদ্রানীতি অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত জানায়। তবে একই সঙ্গে ইঙ্গিত দেয়, শিগগিরই সুদের হার বাড়ানো হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের তুলনামূলক কঠোর মুদ্রানীতির কারণে দুই দেশের সুদের হারের ব্যবধান বেড়েছে। আর এ ব্যবধানই ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দুর্বল হয়ে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
আবারও বাজারে হস্তক্ষেপের জল্পনা
শুক্রবার ব্যাংক অব জাপানের গভর্নর কাজুও উয়েদা সংবাদ সম্মেলনে মুদ্রানীতির সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করার কিছুক্ষণ পরই ইয়েনের মূল্য হঠাৎ বেড়ে যায়। বাজারের ধারণা, ওই সময়ও টোকিও আবার ইয়েন কেনার মাধ্যমে বাজারে হস্তক্ষেপ করেছে।
শুক্রবার ইয়েনের মূল্যবৃদ্ধির পর জাপানের শীর্ষ মুদ্রানীতি কর্মকর্তা আতসুশি মিমুরা সাংবাদিকদের বলেন, “মুদ্রানীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রেখে আমরা বৈদেশিক মুদ্রানীতির দায়িত্ব পালন করব।” তার এই মন্তব্যে অর্থ মন্ত্রণালয় ও ব্যাংক অব জাপানের সমন্বিত পদক্ষেপের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছে।
একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ কয়েকটি বড় ব্যাংককে জানায়, তারা ইয়েনের বাজারে হস্তক্ষেপ করতে পারে এবং সেজন্য ব্যাংকগুলোকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
এদিকে গত সপ্তাহে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট মন্তব্য করেছিলেন, “আমার কাছে ইয়েনের মূল্য অনেক কম বলে মনে হচ্ছে।”
মার্কিন বন্ডের ফলন নিয়েও উদ্বেগ
জাপান-যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ের আরেকটি ইঙ্গিত হিসেবে জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ইংরেজিতে এক বিরল বার্তা প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, বাজারে তারল্য সংকট মোকাবিলায় সরকারের হাতে বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের রিপারচেজ সুবিধার মাধ্যমে অস্থায়ী ডলার তারল্য পাওয়ার সুযোগও রয়েছে।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় ২০২০ সালে চালু হওয়া এই সুবিধার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ড বিক্রি না করেই জাপান ডলার সংগ্রহ করতে পারে। ফলে ইয়েনের পক্ষে বাজারে হস্তক্ষেপের জন্য অর্থ জোগাড়ে চাপ কমবে।
বিশ্লেষকদের মতে, জাপান যদি ধারাবাহিকভাবে ইয়েন কিনতে চায়, তাহলে বড় অঙ্কের মার্কিন ট্রেজারি বন্ড বিক্রির প্রয়োজন হতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের বাজারে বিক্রির চাপ তৈরি হয়ে ফলন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সাবেক ব্যাংক অব জাপান কর্মকর্তা নোবুয়াসু আতাগো রয়টার্সকে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান—উভয় দেশই মূল্যস্ফীতি আবারও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দুই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিছিয়ে পড়তে পারে। তাই তারা সহযোগিতার মধ্যেই সুবিধা দেখছে।”
এদিকে জাপানের সরকারি বন্ডের (জেজিবি) ফলন বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশটির অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রী মিনোরু কিউচি বলেছেন, সরকার বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ আরও জোরদার করবে।
রবিবার এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “জাপানের আর্থিক সক্ষমতা ও রাজস্ব ব্যবস্থার প্রতি বাজারের আস্থা ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” সূত্র: রয়টার্স