বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসছেন মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোর

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-২৯, | ১০:৪০:২৩ |
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর আগামীকাল ঢাকা আসছেন। কূটনীতিক গোর একইসাথে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সফরে সরকারপ্রধানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের সাথে বৈঠকের কথা রয়েছে সার্জিও গোরের।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সফরে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে, বাংলাদেশের চীন ঘনিষ্ঠতা এড়াতে বার্তা আসতে পারে। বিপরীতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও বার্তা যেতে পারে ব্যবসা সম্প্রসারণে নীতিমালা সংশোধনের।

বয়স কেবল ৩৯। অপেক্ষাকৃত তরুণ বয়সেই ট্রাম্প প্রশাসনের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক দূতের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন সার্জিও গোর। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এটিই প্রথম বাংলাদেশ সফর।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর ও ব্যবসা-বাণিজ্যকেন্দ্রীক চীন ঘনিষ্ঠতা চিন্তায় ফেলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে। বাংলাদেশ যাতে মার্কিন বলয়ের বাইরে না যায় এমন বার্তা আসতে পারে সার্জিও গোরের সফরে। তেমনটা মত বিশ্লেষকদের।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘এই যে সম্পর্ক, সে সম্পর্কটা আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কিছু উদ্বেগেরও বিষয় আছে। আমরা জানি যে ভূ-রাজনৈতিক বিবেচনায় বা ট্রাম্পের তার যে পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য অর্জন করার ক্ষেত্রে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল কিংবা দক্ষিণ এশিয়া বা মধ্য এশিয়া এই এ অঞ্চলগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট কতগুলো অবস্থান আছে। তো সে অবস্থানের সঙ্গে বাংলাদেশ কতটা এডজাস্ট করছে, সে বিষয়গুলো হয়তো একটু পরখ করে দেখবেন। বাংলাদেশও এই সুযোগে তার নিজের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ পাবে।’

সার্জিও গোর একইসাথে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তাই, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল্যায়নে সার্জিও গোরের কাছে গুরুত্ব পাবে ভারতের চোখে বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও কূটনীতি। যেমনটি মনে করছেন এই বিশ্লেষক।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু উনি ভারতের রাষ্ট্রদূত এবং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যে সম্পর্ক, সে সম্পর্কটি বাংলাদেশ ভারতের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভারত হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে কোয়াড, যে নেতৃত্বে আছে, তার অন্যতম সদস্য। এবং একই সঙ্গে চীন কেন্দ্রিক যে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির যে লক্ষ্যগুলো আছে এ অঞ্চলে, দক্ষিণ এশিয়া, বে অব বেঙ্গল বা ইন্দো-প্যাসিফিক, সেগুলো অর্জন করার ক্ষেত্রে ভারতের সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

সার্জিও গোরের সফরে প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা আছে। এসব বৈঠকে, বাংলাদেশি সব পণ্যে সাম্প্রতিক আরোপিত ১০ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারসহ দুদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে আলোচনা গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা ।

অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, ‘১০ শতাংশ শুল্কের যে বিষয়টি, সেটি যাতে কীভাবে আমরা সুরহা করতে পারি, এগুলোর দিকে তো বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নজর দিতে হবে। সেগুলো নিয়ে কথা বলতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে বিনিয়োগ, সেটা কিন্তু বাংলাদেশে যে টপ টেন ইনভেস্টিং কান্ট্রি হিসেবে কিন্তু আছে এখনো। সুতরাং, সেই জায়গাতে কীভাবে আবার তাদেরকে সামনের দিকে নিয়ে আসা যায়, তো সেজন্য চেষ্টা করতে হবে।’

ব্যবসা-বাণিজ্যে চীন ঘনিষ্ঠতা মানেই আমেরিকা বিরোধিতা নয়- এমন বার্তা পৌঁছাতে হবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে। সেদিক বিবেচনায় সার্জিও গোরের সফরকে উপযুক্ত উপলক্ষ হিসেবে দেখার পরামর্শ বিশ্লেষকদের।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..