✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-২৭, | ১৮:৫৫:০৩ |স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপ। তবে টুর্নামেন্টজুড়ে বিভিন্ন ঘটনায় আলোচনা-সমালোচনা চলছেই। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপ নিয়ে সমালোচকদের কড়া জবাব দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
তিনি সমালোচনাকারীদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও মিথ্যা বয়ান ছড়ানোর অভিযোগ এনেছেন। একই সঙ্গে সদ্য শেষ হওয়ার আসরটিকে ঐক্য, নিরাপত্তা ও অন্তর্ভুক্তির এক সফল আয়োজন হিসেবে তুলে ধরেছেন।
সোমবার(২৭ জুলাই) প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে ৫৬ বছর বয়সী ইনফান্তিনো বলেন, সমালোচকরা বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ ভক্তের সেই আনন্দ ও একাত্মতার অনুভূতিকে উপেক্ষা করেছেন, যারা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় আয়োজিত এবং স্পেনের জয় করা এই টুর্নামেন্টটি উপভোগ করেছিলেন।
তিনি বলেন, আপনারা ঘৃণা ও সমালোচনায় এতটাই মগ্ন ছিলেন, এসব কিছুই আপনাদের চোখ এড়িয়ে গেছে। যারা কলম-কাগজ কিংবা পর্দার আড়ালে বসে ঘৃণা ও মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছেন। তাদের উদ্দেশে বলছি, আপনারা যখন আড়ালে বসে আছেন, তখন আমরা ফিফায় একেবারে সামনের সারিতে থেকে আয়োজন ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বিশ্বের সেরা অনুষ্ঠানটি উপহার দিচ্ছি।
ফিফা সভাপতি বলেন, আমরা কোনো সহিংসতা বা অপ্রীতিকর ঘটনার সম্মুখীন হইনি; ছিল শতভাগ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা, আর কেবলই আনন্দ ও উচ্ছ্বাস।
টুর্নামেন্ট চলাকালে ফিফা বেশ কিছু বিষয় নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিল; এর মধ্যে ছিল বিভিন্ন দেশের সমর্থক ও কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বিধিনিষেধ নিয়ে বিতর্ক এবং সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের দলগুলোর অংশগ্রহণ সংক্রান্ত উদ্বেগ।
ফোলারিন বালোগুনের শাস্তির বিষয়টি ফিফা যেভাবে পরিচালনা করেছিল। বিশেষ করে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লাল কার্ড পাওয়ার পর তার ওপর আরোপিত স্বয়ংক্রিয় এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তটি নিয়ে ব্যাপক পর্যালোচনার পরই ইনফান্তিনোর এই চিঠিটি আসে।
মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচে রেফারি ও ম্যাচ পরিচালনাকারীদের সিদ্ধান্ত নিয়েও ভক্ত ও বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল।
ইনফান্তিনো নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার উল্লেখ না করলেও তিনি যুক্তি দেন, টুর্নামেন্ট চলাকালীন রেফারিং ও শাস্তিমূলক যেসব সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সেগুলো খুবই সাধারণ ঘটনা।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বড় বড় লিগগুলোতেও ভুলবশত লাল বা হলুদ কার্ড দেখানো কিংবা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের নিষিদ্ধ না করার মতো সিদ্ধান্তগুলো নিয়মিত ঘটনা এবং তা ব্যাপকভাবে গৃহীত। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যেসব দেশ নিজেরা এই চর্চাগুলো অনুসরণ করে, তারাই এখন এর সমালোচনা করছে।
ভিসা সংক্রান্ত বিতর্ক
রাজনৈতিক উত্তেজনা, অভ্যন্তরীণ সংকট এবং স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা দেশগুলোর অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরে ইনফান্তিনো বলেন, বিভেদ বা বিভাজনকে ছাপিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা ফুটবলের রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের অংশগ্রহণ যেমন ঘটেছে, তেমনি হাইতির অভ্যন্তরীণ সংকট এবং ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোতে ইবোলার প্রাদুর্ভাবের মতো বিষয়গুলোও ভিসা ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গটি সামনে নিয়ে এসেছিল।
বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও সোমালিয়ার বিশ্বকাপ রেফারি ওমর আবদুকাদির আরতানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, ইরান কোনো ঝামেলা বা সংঘাত ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে। ইরানি দল প্রবেশের জন্য ভিসা পেয়েছিল কারণ ফুটবল মানেই শান্তি; এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা বা অন্যান্য চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা দেশগুলোকেও ভিসা দেওয়া হয়েছিল।
ফিফা সভাপতি বলেন, ফুটবল যখন হাইতিকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরে, এমন একটি দেশ যেখানে অনেকে যেতে পারেন না বা যেতে চান না। তখন হয়তো সময় এসেছে কলম ও কিবোর্ড সরিয়ে রেখে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রতি কিছুটা সম্মান দেখানোর।