চীন থেকে কাঁধে বহনযোগ্য বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে ইরান

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-২৯, | ১৪:৩০:১১ |
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের পর আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চীন থেকে কাঁধে বহনযোগ্য বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের (ম্যানপ্যাড) প্রথম চালান পেতে যাচ্ছে ইরান। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্রের বরাতে মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৬০ থেকে ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের এই চুক্তির আওতায় ৩০০ থেকে ৪০০টি ম্যান-পোর্টেবল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (ম্যানপ্যাড) কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে চীনে তৈরি কিউডব্লিউ-১২ ও এফএন-১৬ ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। স্বল্প-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এটিকে তেহরানের অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্রগুলো জানায়, চুক্তিটি হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ঝংকিং বাওশাং ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ইরান ও চীনা সরবরাহকারীদের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে।

কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর জবাবে ইরানও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। সংঘাতে স্থায়ী সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে আধুনিক যুদ্ধবিমান ও নিখুঁত লক্ষ্যভেদী অস্ত্রের বিরুদ্ধে সুরক্ষিত রাখার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ করেই দুই সপ্তাহের বোমাবর্ষণ স্থগিত করলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সংঘাত অবসানের আলোচনা ব্যর্থ হলে হামলা আবার শুরু হতে পারে। যদিও তাত্ত্বিকভাবে এপ্রিল মাস থেকেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।

সূত্রগুলোর দাবি, শত শত ম্যানপ্যাড সরবরাহ হলে ইরানের স্বল্প-পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে দেশটির সামরিক সহযোগিতাও আরও গভীর হওয়ার ইঙ্গিত মিলবে। তবে সরবরাহের সময়সূচি, অস্ত্রের সংখ্যা ও বাস্তবায়নের অন্যান্য বিষয় পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে পশ্চিম চীনের উরুমকি থেকে আকাশপথে এবং পরে পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে এসব অস্ত্র ইরানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত আকাশপথ নাকি স্থলপথ ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) চীন থেকে ইরানে আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্র সরবরাহের খবরকে 'সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা' বলে দাবি করেছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনকে 'সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন' উল্লেখ করে বলেছে, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংঘাত অবসানে চীন সবসময় ভূমিকা পালন করে আসছে। অন্যদিকে ঝংকিং বাওশাং ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্টের মূল প্রতিষ্ঠান বেইজিংভিত্তিক ঝং কিং বাও শাং গ্রুপ রয়টার্সের পাঠানো মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি।

রয়টার্স জানায়, ইরান ও চীন অস্ত্র সরবরাহের জন্য স্থলপথ ব্যবহারের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে। দুটি পশ্চিমা গোয়েন্দা সূত্র ও একজন ইরানি কর্মকর্তার মতে, চীনা সামরিক সরঞ্জাম এবং দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য যন্ত্রাংশ আরও গোপনে স্থানান্তর ও সরবরাহে বিঘ্নের ঝুঁকি কমাতে স্থলপথের বিকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে।

একটি ইউরোপীয় নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, তাদের কর্তৃপক্ষ কিউডব্লিউ-১২, কিউডব্লিউ-১৮ ও কিউডব্লিউ-১৯ সিরিজের ম্যানপ্যাড বিক্রির সম্ভাব্য আলোচনা সম্পর্কে অবগত ছিল। মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি নিরাপত্তা সূত্রের ভাষ্য, ইরান কিউডব্লিউ-১২ ও কিউডব্লিউ-১৮ কেনার চেষ্টা করছিল, তবে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে তারা নিশ্চিত ছিল না।

বিশ্লেষকদের মতে, কিউডব্লিউ-১২ এবং এফএন-১৬ ইনফ্রারেড-নির্দেশিত, কাঁধে বহনযোগ্য ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। এগুলো নিচু দিয়ে উড়ন্ত যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন লক্ষ্য করে হামলা চালাতে সক্ষম। সহজে বহন ও দ্রুত মোতায়েনের সুবিধার কারণে সামরিক ঘাঁটি, জ্বালানি অবকাঠামো ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষায় এসব অস্ত্র কার্যকর হতে পারে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, কিউডব্লিউ-১২ তুলনামূলকভাবে কিউডব্লিউ-১৮ ও কিউডব্লিউ-১৯-এর চেয়ে কম সক্ষম হলেও নিচু দিয়ে উড়ন্ত লক্ষ্যবস্তু ও ড্রোন প্রতিরোধে এটি কার্যকর স্বল্প-পাল্লার প্রতিরক্ষা দিতে পারে।

রয়টার্স আরও জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট আমদানির ওপর দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও এই ক্রয়াদেশ ইরানের দেশীয় অস্ত্র উৎপাদনের পাশাপাশি বিদেশি সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতার বিষয়টিও সামনে নিয়ে এসেছে।

এর আগে রয়টার্স জানিয়েছিল, ইরান চীনের সঙ্গে জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার জন্য পৃথক একটি চুক্তিরও খুব কাছাকাছি পৌঁছেছিল। তবে সেই চুক্তি শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি সংবাদ সংস্থাটি।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..