✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-২৮, | ২২:১১:১৯ |যে বয়সে বই খাতা হাতে স্কুলে যাওয়ার কথা, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা আর হাসি আনন্দে দিন কাটানোর কথা, সেই বয়সেই জীবনের নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার দুই শিশু সিয়াম ও রিফাত। চার বছর আগে বাবাকে হারানোর পর তাদের জীবন থেকে হারিয়ে যায় নিরাপত্তা, স্নেহ আর নিশ্চিত আশ্রয়। শেষ পর্যন্ত কোনো উপায় না পেয়ে আশ্রয় ও সহযোগিতার আবেদন জানাতে গত সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে তারা ছুটে যায় সরাইল থানায়।
জানা গেছে, উপজেলা সদরের বড্ডাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিয়াম ও রিফাতের বাবা মৃত বাছির মিয়া ছিলেন একজন সিএনজি অটোরিকশাচালক। প্রায় চার বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই দুই শিশুর জীবনে নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা। তাদের মা আসমা আক্তার মানসিক সমস্যায় ভুগছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। ফলে সন্তানদের নিয়মিত দেখভাল ও লালন-পালনের দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবার মৃত্যুর পর কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে দুই ভাই। দীর্ঘদিন ধরে তারা অবহেলা, অনিশ্চয়তা ও মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যে জীবনযাপন করছে। কখনো প্রতিবেশীদের সহায়তায়, আবার কখনো মানুষের দয়ার ওপর নির্ভর করে তাদের দিন কাটছে। অনেক সময় না খেয়েও থাকতে হয়েছে তাদের। এমনকি রাত কাটাতে হয়েছে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে।
এ অবস্থায় নিজেদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে স্থানীয় কয়েকজন স্কুলপড়ুয়া শিশুর সহায়তায় সরাসরি সরাইল থানায় যায় সিয়াম ও রিফাত। সেখানে পুলিশের কাছে তারা আশ্রয় ও সহযোগিতা চেয়ে বলেন, আমাদের একটা ব্যবস্থা করে দিন। আমরা এভাবে আর থাকতে চাই না।
সরাইল থানায় দায়িত্বে থাকা সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কারুন বিল্লাহ শিশু দুটির বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তাদের করুণ পরিস্থিতির কথা শুনে তিনি মানবিকতার পরিচয় দেন এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারাও জানান, বাবার মৃত্যুর পর থেকেই সিয়াম ও রিফাত কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে। মায়ের মানসিক অসুস্থতার কারণে তাদের লালন-পালন ও দেখভাল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শিক্ষা, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক শৈশব সবকিছু থেকেই বঞ্চিত হচ্ছে দুই শিশু।
শিশু দুটি ভয় না পেয়ে নিজেদের সমস্যার কথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তুলে ধরতে পেরেছে এবং পুলিশও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।