✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-২৮, | ২১:১১:১১ |ফ্রান্সের আটলান্টিক উপকূলে দাবানলের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পর্যটন কেন্দ্রগুলো থেকে আরও প্রায় ৪ হাজার মানুষকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ। নতুন করে তাপপ্রবাহ শুরু হওয়ায় বোর্দো শহরের পশ্চিমে বিশাল দাবানল নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের অক্লান্ত প্রচেষ্টা কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। জিরোন্দ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এই আগুনে ইতোমধ্যেই প্যারিস শহরের চার গুণ বড় একটি এলাকা ভস্মীভূত হয়েছে। এতে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার মানুষকে।
বর্তমানে ফ্রান্স ও স্পেন মিলিয়ে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে চরম এই দাবানলের কারণে ঘরবাড়ি ও অবকাশযাপন কেন্দ্র ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হয়েছে। এদিকে একাধিক স্থানে আগুন অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় থাকায় চলতি গ্রীষ্মের চতুর্থ তাপপ্রবাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে স্পেন। এর মধ্যেই দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দাবানলের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের।
শান্তিকালীন সময়ে ফ্রান্স আগে কখনো এত বড় আকারের উচ্ছেদ অভিযান দেখেনি বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনিয়েজ জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির বাইরে এটিই দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বেসামরিক নিরাপদ স্থানান্তর প্রক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
রাতের শান্ত আবহাওয়া কাজে লাগিয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জিরোন্দ অঞ্চলের আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। উপকূলীয় বালিয়াড়ির কাছের ছোট আগুনগুলো নিভিয়ে ফেলায় এখন পর্যন্ত পোড়া এলাকার আয়তন ৪২০ বর্গকিলোমিটারে স্থির রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে এখনই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রিত বলতে নারাজ, তবে পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও আর্দ্রতা কমে গেলে আগুন আবারও ছড়িয়ে পড়ার তীব্র আশঙ্কা রয়েছে।
ঝুঁকি সত্ত্বেও কিছু পর্যটকের অলসতা দেখা গেছে। সতর্কতামূলক এই স্থানান্তরের আওতায় লাকানৌ রিসোর্টের আশপাশের ক্যাম্পসাইট, হলিডে ভিলেজ ও বিনোদন পার্কগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জাতীয় ফায়ার সার্ভিস ফেডারেশনের মুখপাত্র এরিক ব্রোকার্দি জানিয়েছেন, তাপমাত্রা বাড়লেও আগুন নেভানোর লড়াই অব্যাহত রাখা হবে। অন্যদিকে, ঘরবাড়ি পুড়তে থাকা ও জীবনহানির তীব্র ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও কিছু পর্যটক লাখ লাখ টাকা লোকসানের ভয়ে এলাকা না ছেড়ে অবস্থান করার চেষ্টা করছেন।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, জিরোন্দ অঞ্চলের এই অতি-আগ্রাসী আগুন আকাশে বিশাল কালো মেঘ তৈরি করে নিজেদের আবহাওয়া অঞ্চল গড়ে তুলেছিল। যা থেকে বিজলি চমকানোর পাশাপাশি তীব্র বাতাস এবং প্রধান আগুনের সীমানা ছাড়িয়ে নতুন নতুন স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফ্রান্সে এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম রেকর্ড করা হলো। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ফ্রান্সজুড়ে ১ হাজার ১৬০ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে। পুরো ইউরোপই বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে উত্তপ্ত হচ্ছে, যা পশ্চিম ইউরোপে অতি-উষ্ণ জুন মাসের পর পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
সূত্র: এপি