শরীরের বাড়তি মেদ ঝরাতে কমেবেশি সবারই চেষ্টা থাকে। কেউ নিয়মিত হাঁটেন, কেউ ব্যায়াম করেন কেউ বা নিয়মিত দৌড়ান। তবে ফিটনেসপ্রেমীদের মনে প্রায়ই একটি প্রশ্ন ঘোরে—পেটের মেদ দ্রুত কমাতে প্রতিদিন হাঁটা বেশি উপকারী, নাকি দৌড়ানো? দুটিই শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী হলেও, চর্বি ঝরানোর ক্ষেত্রে কার্যকারিতার দিক থেকে এদের মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু পার্থক্য।
‘টিভিনাইনে’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যালোরি খরচের বিচারে দৌড়ানো স্পষ্টভাবেই এগিয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমপরিমাণ সময়ে হাঁটার তুলনায় দৌড়ালে প্রায় দ্বিগুণ ক্যালোরি খরচ হয়। প্রতি মিনিটে দৌড়নো বেশি শক্তি ও ক্যালোরি ব্যয় করায় এটি খুব দ্রুত শরীরের ফ্যাট কমানোর পাশাপাশি পেটের চর্বি দ্রুত ঝরাতে সাহায্য করে।
ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তীব্র গতিতে দৌড়ানোর পর শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অতিরিক্ত অক্সিজেন ব্যবহার করে। এর ফলে ওয়ার্কআউট শেষ করার অনেক ঘণ্টা পরও বিশ্রামরত অবস্থাতেই শরীরে ক্যালোরি ঝরতে থাকে। হাঁটার ক্ষেত্রে এই প্রতিক্রিয়া অতটা বেশি দেখা যায় না।
দৌড়নো একটি হাই-ইমপ্যাক্ট এক্সারসাইজ । তবে যাদের ওজন অনেক বেশি, হাঁটু বা গোড়ালিতে ব্যথা রয়েছে কিংবা যারা বয়স্ক—তাদের জন্য হঠাৎ দৌড়ানো চোট-আঘাতের কারণ হতে পারে। অন্যদিকে, হাঁটা একটি লো-ইমপ্যাক্ট এক্সারসাইজ । এটি জয়েন্ট বা হাড়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ না ফেলে দীর্ঘমেয়াদে শরীরকে সুস্থ ও মেদ মুক্ত রাখে।
পেটে চর্বি জমার একটি বড় কারণ হল অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা ‘কোর্টিসল’হরমোনের ক্ষরণ। হালকা বা দ্রুত গতিতে হাঁটা শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায় এবং কোর্টিসলের মাত্রা কমায়, যা পরোক্ষভাবে পেটের চর্বি জমতে বাধা দেয়। আপনার শরীর যদি ভারী ব্যায়ামের উপযোগী হয়, তবে দৌড়নো নিঃসন্দেহে সবচেয়ে সেরা বিকল্প।
তবে যারা ফিটনেসে নতুন, বয়স বেশি কিংবা জয়েন্টের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য নিয়মিত দ্রুত গতিতে হাঁটা বা ইনক্লাইন ওয়াকিং (উঁচু রাস্তায় হাঁটা) সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর পথ। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাঁটা ও দৌড়ানোর এক অসাধারণ ককটেল তৈরি করতে পারেন ‘ইন্টারভাল ট্রেনিং’-এর মাধ্যমে। অর্থাৎ ১-২ মিনিট দৌড়ানো, পরের ২-৩ মিনিট হাঁটা, এভাবে করলে জয়েন্টে চাপ না দিয়ে দ্রুত মেদ ঝরাতে দারুণ কাজ করে।
এ জাতীয় আরো খবর..