✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-২৬, | ১১:১৬:২৭ |ভয়াবহ দাবানলের কবলে পড়ে চরম বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে ফ্রান্স ও স্পেন। গত কয়েক দিন ধরে বন্টন করা এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই দেশের প্রায় দুই লাখ সাতষট্টি হাজার মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। দিনরাত এক করে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর সদস্যরা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্যারিস থেকে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ এবং স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের আশেপাশের এলাকায় দাবানল ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধুমাত্র বর্ডো এলাকার আশপাশের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলো থেকেই প্রায় এক লক্ষ সাতানব্বই হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, শান্তিকালীন পরিস্থিতিতে এটিই দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় উদ্ধার অভিযান।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পুনর্গঠনের জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেছেন, দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও মেরামত করা হবে এবং যত দিন প্রয়োজন, সরকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকবে। আবহাওয়ার প্রতিকূলতার কারণে ফ্রান্সজুড়ে এই দাবানলে ইতোমধ্যে প্রায় আটানব্বই হাজার হেক্টর বা প্রায় দুই লক্ষ বিঘা জমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, যা একটি ঐতিহাসিক রেকর্ড।
অন্যদিকে, স্পেনেও পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মাদ্রিদের পশ্চিমের বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রায় ষাট হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে জানান, বর্তমানে তাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো মানুষের জীবন বাঁচানো। এর আগে স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলের কাছে অন্য একটি দাবানলের আগুনে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, মাদ্রিদের পশ্চিমে দাবানলের কারণে প্রায় পঁচিশ হাজার হেক্টর ভূমি পুড়ে গেছে এবং দুটি প্রধান দাবানল একত্রিত হয়ে এক বিশাল অগ্নিকাণ্ডের রূপ ধারণ করেছে।
স্পেনের আবহাওয়া সংস্থা আয়েমেত-এর উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, ফ্রান্স ও স্পেনের দাবানল থেকে নির্গত বিশাল ধোঁয়ার মেঘ বায়ুমণ্ডলে এসে একত্রিত হচ্ছে। দমকলকর্মীরা সার্বক্ষণিক আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে গেলেও তীব্র দাবদাহ ও বাতাসের কারণে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, কিছু এলাকায় আগুনের তীব্রতা কিছুটা কমতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দুই দেশের প্রশাসনই সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।