✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৭-০৯, | ১৪:০৬:২১ |যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো নতুন হামলার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও আরও ব্যাপক আকারে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরানের একটি উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা সূত্র আল মায়াদিনকে জানিয়েছে, চলমান উত্তেজনার আগেই ইরান তার এই কঠোর অবস্থানের কথা ওয়াশিংটনকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছিল। মার্কিন আগ্রাসন বিশ্ব জ্বালানি বাজারে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে তা উল্লেখ করে ওই সূত্রটি মন্তব্য করেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি তেলের চড়া দাম চান, তবে আমরা তাকে স্বাগত জানাই।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশটির ওপর যেকোনো ধরনের আঘাতের ফল হবে তাৎক্ষণিক এবং আরও বড় পরিসরে। তেহরানে নিযুক্ত আল মায়াদিনের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর থেকে এটিই ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা। এবারের মার্কিন হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দক্ষিণ ইরানের চাবাহার বন্দর।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় চাবাহার বন্দরের দুটি সামুদ্রিক জেটি এবং একটি নেভিগেশন কন্ট্রোল টাওয়ারসহ বেশকিছু বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের গোলার আঘাতে ইমাম আলী হাসপাতালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চাবাহার ছাড়াও কোনারাক, সিরিক, জাস্ক, বুশেহর প্রদেশ, আবু মুসা দ্বীপ এবং উত্তর ইরানের যোগাযোগ অবকাঠামোতে মার্কিন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
এই মার্কিন হামলার পরপরই ইরান তার পাল্টা জবাবের প্রথম ধাপ শুরু করে দিয়েছে। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, কাতার ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। অন্যদিকে মেহের নিউজ এজেন্সি বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তরের কাছে শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর নিশ্চিত করেছে।
একই সাথে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে জানিয়েছে তাসনিম নিউজ এজেন্সি। পরবর্তীতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী কুয়েত এবং বাহরাইনের আরিফজান, আলী আল-সালেম, জুফায়ার এবং শেখ ঈসা ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। সেই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় আগ্রাসন চালায়, তবে অঞ্চলের অন্য সব মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা আরও জোরদার করা হবে।