✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-৩১, | ২০:২৮:৫৮ |মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি-র নৌবাহিনীর কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি ও সমন্বয় নিয়ে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে ২৮টি বাণিজ্যিক জাহাজ। আজ রবিবার আইআরজিসি-র নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে ওই বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করা এই জাহাজগুলোর মধ্যে তেল ট্যাংকার, কনটেইনারবাহী জাহাজসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক নৌযান অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা আইআরজিসি-র বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থার আওতায় প্রণালি পার হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতির সমালোচনা করে আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, পারস্য উপসাগর মূলত এই অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলোর অধিকারভুক্ত এবং এখানকার নিরাপত্তাহীনতার প্রধান কারণ হলো আমেরিকার ‘সন্ত্রাসী’ সেনাবাহিনীর আগ্রাসন ও অপতৎপরতা। ইরান এখন এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর নিজস্ব ‘স্মার্ট কন্ট্রোল’ বা বুদ্ধিদীপ্ত নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে এবং তা অত্যন্ত শক্তি ও কর্তৃত্বের সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে।
এর আগে, গতকাল শনিবার ইরানের ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের পক্ষ থেকেও এক সতর্কবার্তায় জানানো হয়, এই কৌশলগত জলপথের ব্যবস্থাপনায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পূর্ণ কর্তৃত্ব চর্চা করছে এবং হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের আগে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাংকারগুলোকে অবশ্যই নির্দিষ্ট রুট ব্যবহার করতে হবে এবং আইআরজিসি-র নৌবাহিনী থেকে পূর্বানুমতি নিতে হবে। এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে জাহাজের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়বে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ইরানি গণমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করতে ইচ্ছুক জাহাজগুলোর জন্য সম্প্রতি একটি নতুন ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা চালু করেছে ইরান। এই নিয়ম অনুযায়ী, প্রণালি পার হওয়ার আগে জাহাজগুলোকে একটি নির্দিষ্ট সরকারি ইমেইল ঠিকানা থেকে নিয়মাবলি-সংক্রান্ত ইমেইল পাঠানো হচ্ছে এবং সেই অনুযায়ী অনুমতি নিতে হচ্ছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবৈধ ও উসকানিমূলক আগ্রাসনের পরই হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ শুরু করে তেহরান। পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বন্দর ও জাহাজগুলোর ওপর বেআইনি অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিলে এই নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়।
তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটনের এই অবরোধ পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেই বর্ধিত করা যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তাবলির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ বা ২০ শতাংশই এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা এটিকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান কৌশলগত সামুদ্রিক রুটে পরিণত করেছে। গত এপ্রিলে ইরানের আরোপিত এই নতুন বিধিনিষেধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল এবং বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হু হু করে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান অবশ্য জানিয়েছে, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা পুনরায় শুরু হবে না—এমন সুনির্দিষ্ট গ্যারান্টি এবং ওয়াশিংটনের আরোপিত অর্থনৈতিক অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হলে তারা এই বিধিনিষেধ ধীরে ধীরে শিথিল করতে প্রস্তুত। তবে ইরানি কর্মকর্তারা একইসঙ্গে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালির নৌযান চলাচলের পরিস্থিতি আর কখনোই যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে না এবং শত্রুভাবাপন্ন বা শত্রু রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত জাহাজগুলোর ওপর এই কঠোর কড়াকড়ি ও নিষেধাজ্ঞা ভবিষ্যতেও বহাল থাকবে।
সূত্র: প্রেস টিভি