ট্রাম্পের দাবি মেনে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে না পাকিস্তান

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-২৬, | ১৭:৩২:৫৬ |

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোকে আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়ার যে আহ্বান জানানো হয়েছে, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই প্রস্তাব পাকিস্তানের মৌলিক আদর্শের পরিপন্থী এবং কোনো অবস্থাতেই তা ইসলামাবাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। 

সম্প্রতি পাকিস্তানের সামা টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী তার এই কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

মূলত ইরান সংকটের অবসান ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোকে ইসরায়েলের সাথে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদার করার এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করার আহ্বান জানান। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের পাশাপাশি এবার সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক, মিশর, জর্ডান এবং পাকিস্তানের মতো দেশগুলোকে এই ঐতিহাসিক চুক্তির আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। কিন্তু ট্রাম্পের এই প্রচেষ্টায় পাকিস্তান বড়সড় ধাক্কা দিল।

খাজা আসিফ তার সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অনড় অবস্থানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ১৯৬৭ সালের আগের সীমানা অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যাদের কথার কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই এবং যাদেরকে একটা দিনও ভরসা করা যায় না, তাদের সাথে কীভাবে এক টেবিলে বসা সম্ভব। শুধু তা-ই নয়, বিশ্ব রাজনীতি ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরায়েলি আগ্রাসনের তীব্র সমালোচনা করে গত মাসেও খাজা আসিফ ইসরায়েলকে মানবতার জন্য এক অভিশাপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন এবং সেখানে গণহত্যা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন।

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে গত ৭৮ বছরের ইতিহাসে পাকিস্তান কখনোই ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি, যার ফলে পাকিস্তানি নাগরিকদের পাসপোর্টেও ইসরায়েল ভ্রমণের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বর্তমান ভূরাজনীতিতে ওয়াশিংটনের সাথে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন কাটিয়ে সম্পর্ক জোড়াতালি দেওয়ার একটা চেষ্টা পাকিস্তানের সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্বের মধ্যে থাকলেও ইসরায়েল ইস্যুতে অভ্যন্তরীণ প্রবল রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপের কারণে ট্রাম্পের এই প্রস্তাব পাকিস্তানের জন্য এক বড় কূটনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। 

সূত্র: এনডিটিভি

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..