আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নোয়াখালীতে কোরবানির পশুর হাট মাতাচ্ছে ‘নোয়াখালীর বস’। হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুটির ওজন প্রায় ৩০ মণ। ধবধবে সাদা রঙের বিশাল আকৃতির গরুটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। গরুটির দাম হাঁকা হচ্ছে ১০ লাখ টাকা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে ভিড় করছেন বিশাল আকৃতির গরুটি দেখতে। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন। শিশু-কিশোরদের মধ্যেও দেখা গেছে বাড়তি আগ্রহ। অনেকেই গরুটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ ও ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় এত বড় গরু আগে খুব একটা দেখা যায়নি। তাই প্রতিদিনই মানুষ ভিড় করছেন। বিশেষ করে বিকেলের দিকে খামারে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেড়ে যায়।
স্থানীয় আবদুল কাদের নামে একজন বলেন, এত বড় গরু জীবনে খুব কম দেখছি। দূর থেকে দেখলে মনে হয় ছোট একটা পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে। এলাকার মানুষ প্রতিদিন ভিড় করছে।
খামারটির পরিচালনাকারী মো. শাহরিয়ার বলেন, চার বছর ধরে গরুটিকে খুব যত্নে লালন-পালন করা হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ বা মোটাতাজাকরণ ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়নি। খড়, ঘাস, ভুসি, ভুট্টা ও প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে বড় করা হয়েছে। গরুটির ওজন প্রায় ৩০ মণ হয়েছে।
আমেরিকা প্রবাসী মোস্তফা আমির ফয়সাল চার বছর ধরে লালন-পালন করে বিশাল আকৃতির এই গরুটি বড় করে তুলেছেন। আরেক আমেরিকা প্রবাসী আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহের অর্থায়নে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার নোয়াখলা ইউনিয়নে গরুটি লালন-পালন করা হচ্ছে। খামারটির দেখভাল করছেন স্থানীয় কয়েকজন কর্মী। জন্মের পর থেকেই প্রাকৃতিক খাবার ও বিশেষ যত্নে বড় করা হয়েছে ‘নোয়াখালীর বস’-কে।
গরু দেখতে আসা মো. আবু হানিফ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখে এখানে এসেছি। কাছে এসে দেখে সত্যিই অবাক হয়েছি। এত বড় গরু সচরাচর দেখা যায় না। যদি ন্যায্যমূল্য পায় তাহলে খামারির মুখে হাসি ফুটবে।
চাটখিল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, খামারিরা এখন বাণিজ্যিকভাবে বড় গরু লালন-পালনে আগ্রহী হচ্ছেন। ‘নোয়াখালীর বস’ গরুটি প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে এমন বড় গরু ক্রেতাদেরও আকর্ষণ করছে।
এ জাতীয় আরো খবর..