✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-২৩, | ১৩:৩৬:৫৬ |গরু বাজারে বেশি হাসিল, নিরাপত্তাহীনতা, যাতায়াত ও রাখার বিড়ম্বনায় খামারমুখী হচ্ছেন কুমিল্লা নগরীর পশুর ক্রেতারা। গত কয়েক বছর ধরে ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশু কোরবানিদাতাদের খামারমুখী হওয়ার সংখ্যা বাড়ছে। কয়েকটি খামার মালিক ও ক্রেতাদের সাথে কথা বলে এই তথ্য পাওয়া গেছে। কুমিল্লা জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নির্ধারিত মূল্যের বেশি হাসিল নেয়া যাবে না, অনিয়ম হলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সরেজমিন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার কমলাপুর গিয়ে দেখা যায়, কুমিল্লা-সুয়াগাজী সড়কের পাশে ফরিদ এগ্রো ফার্ম। সেখানে দেখা যায়, দেশীয় খাবার দিয়ে গরু পালন করা হচ্ছে। এই ফার্মে ৩০টির মতো বিক্রিযোগ্য গরু রয়েছে। সব গুলো দেশি শাহীওয়াল জাত। এখানে ৩ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা দামের গরু রয়েছে। বড় গরুটির ওজন হাজার কেজির বেশি। নাম রাজাবাবু। দাম ধরা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। পরিচ্ছন্ন পরিবেশে গরু পালন ও যাতায়াতের সুবিধা থাকায় এখানের গরু সহজে ক্রেতাদের নজর কাড়ছে।
ফরিদ এগ্রো ফার্মের ব্যবস্থাপক খালেদ মনসুর ইমন বলেন, নগরীতে গরু রাখা ও খাবার ব্যবস্থাপনার কারণে ক্রেতারা খামারমুখী হচ্ছেন। আমাদের কয়েকটি গরু ইতোমধ্যে বিক্রি হয়েছে। আমরা কোনটা ঈদের আগের দিন, কোনটা ঈদের দিন ডেলিভারি দেবো।
জেএইচ এগ্রো পার্কের পরিচালক মোহাম্মদ জিয়াউল হক লিটু বলেন, সদর উপজেলার কালিরবাজার ইউনিয়নের ধনুয়াখলায় আমাদের খামার। আমরা লক্ষ্য করেছি গত বছর থেকে এবার আমাদের খামার থেকে গরু ক্রয় বেড়েছে। তার দুইটি কারণ হতে পারে। একটি রাখার সমস্যা, দ্বিতীয়টি সুস্থ পশুর নিশ্চয়তা।
খামার থেকে পশু ক্রয় করা কুমিল্লা ক্লাবের সেক্রেটারি আহমেদ শোয়েব সোহেল বলেন, পশু ক্রয় করতে বাজারে যাতায়াত করা সময়ের বিষয়। এছাড়া গরু অনেক সময় সুস্থ পড়ে না, এছাড়া গরু রাখারও সমস্যা রয়েছে। তাই একটি খামার থেকে অগ্রিম পশু ক্রয় করেছি। তারা ঈদের দিন সকালে বাসায় গরু পৌঁছে দিবেন।
কুমিল্লা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের জেলা ট্রেনিং অফিসার ডা. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, গরুর হাটে যেন অসুস্থ পশু বিক্রি না হয় সেবিষয়ে আমাদের মেডিকেল টিম কাজ করছে। এবার জেলার ৪ শতাধিক হাটে ৮৫টি মেডিকেল টিম কাজ করবে। এদিকে সৌখিন ক্রেতারা ভিড় এড়াতে খামার থেকে পশু ক্রয় করছেন বলে তিনি জানান।
জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, হাটের নিরাপত্তা ও জাল টাকা প্রতিরোধে আমরা কাজ করছি। এছাড়া স্কুল কলেজ মাঠ ও মহাসড়কে হাট না বসাতে বলা হয়েছে। এদিকে নির্ধারিত মূল্যের বেশি হাসিল নেয়া যাবে না, অনিয়ম হলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।