সর্বশেষ :
রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজনে ৬ কমিটি প্রবাসী আয়ে সুবাতাস, ৮ দিনে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৯১৫ মিলিয়ন ডলার কোন পথে এগোচ্ছে ট্রুডো-কেটি পেরির প্রেম? গণমাধ্যমে সংবাদ পরিবেশনে যেন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি বিকৃত না হয় : তথ্যমন্ত্রী ব্রেট লির মতে, শচীন সেরা ব্যাটার হলেও সর্বকালের সেরা ক্যালিস মেয়েকে গণধর্ষণ মামলায় মায়ের ১৫ বছরের কারাদণ্ড সৌদি ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচনে বৈধ প্রার্থী একজন, বাদ পাঁচ প্যানেল ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ হলেও নির্ভার রাবাদা বামপন্থার অবসান, ফিরল ডানপন্থী শাসন: কেন দে লা এসপ্রিয়েলার ওপর বাজি ধরলেন ট্রাম্প? দেশ গঠনে আলেম-ওলামাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

৩ বছরে প্রথমবার রাশিয়ার অর্থনীতিতে সংকোচন

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-২০, | ২০:২৪:৫৭ |
ইউক্রেন যুদ্ধ ও পশ্চিমাদের নানা নিষেধাজ্ঞার কারণে বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে রাশিয়ার অর্থনীতি।

ফলে বিগত তিন বছরের মধ্যে প্রথম কোনো প্রান্তিকে দেশটির অর্থনীতিতে সংকোচন দেখা গেছে। রাশিয়ার সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা রসস্ট্যাট চলতি সপ্তাহে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। খবর স্ট্রেইট টাইমস।

দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) রাশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ২ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। অন্যদিকে গত বছরের একই সময়ে দেশটির অর্থনীতি ১ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে রাশিয়ার অর্থনীতিতে এটি একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইউক্রেন যুদ্ধের পেছনে ক্রেমলিন বা রুশ সরকার প্রচুর অর্থ ব্যয় করছে। দীর্ঘমেয়াদে এ অতিরিক্ত ব্যয় দেশের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে রাশিয়ায় মূল্যস্ফীতি বা জিনিসপত্রের দাম অনেক বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে সামরিক খাত ছাড়া অন্য সাধারণ খাতগুলোয় তীব্র শ্রমিক সংকট তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে রাশিয়া পুরো ২০২৬ সালের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও কমিয়ে এনেছে। আগের পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি বছর প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৩ শতাংশ ধরা হয়েছিল, তবে এখন তা কমিয়ে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

অবশ্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেন, বছরের প্রথম দুই মাস সংকোচন থাকার পর মার্চ থেকে অর্থনীতি আবার প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে এসেছে। তিনি এ ইতিবাচক ধারাকে ধরে রেখে দেশের অন্যান্য শিল্প খাতে ছড়িয়ে দেয়ার ওপর জোর দেন।

রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানায়, প্রথম প্রান্তিকের অর্থনৈতিক পতন স্থায়ী কোনো সমস্যা নাও হতে পারে। গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ায় প্রচুর তুষারপাত হয়েছিল। ভারী তুষারপাতের কারণে দেশের নির্মাণকাজ ব্যাহত হয় এবং সাধারণ মানুষের কেনাকাটার পরিমাণ কমে যায়। ফলে অর্থনীতি সাময়িকভাবে কিছুটা সংকুচিত হয়েছে।

এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে চলেছে।

ফলে তেল রফতানিকারক দেশ হিসেবে রাশিয়া সাময়িক কিছু সুবিধা পাচ্ছে। তবে রাশিয়ার অর্থনীতির মূল সমস্যাগুলো এখনো দূর হয়নি। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, শ্রমিক সংকট এবং অতিরিক্ত সামরিক ব্যয়ের মতো কাঠামোগত সমস্যা দেশের অর্থনীতিকে ভেতর থেকে দুর্বল করছে। এর ওপর সাম্প্রতিক মাসগুলোয় রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও অবকাঠামোতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কারণে দেশটির অপরিশোধিত তেল রফতানিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বাড়তি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার অনেকটা বাড়িয়েছে। ফলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ঋণ নেয়া ব্যয়বহুল হওয়ায় বড় বড় কোম্পানি কর্মী ছাঁটাই করতে বাধ্য হচ্ছে ও সরকারের কাছে আর্থিক সাহায্য চাইছে। অন্যদিকে ছোট ব্যবসাগুলো টিকে থাকতে না পেরে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলে উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০২২ সালে ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর পর থেকেই রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় তহবিলে টান পড়তে শুরু হয়। তখন থেকেই প্রতি বছর মস্কো বড় অংকের বাজেট ঘাটতির মুখে পড়ছে। চলতি ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই রাশিয়ার বাজেট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ হাজার কোটি ডলারে। বিশাল এ ঘাটতি রাশিয়ার মোট জিডিপির প্রায় ১ দশমিক ৯ শতাংশের সমান।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..