যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এক নির্বাহী আদেশের পর কিউবায় সব ধরনের বুকিং স্থগিত করেছে বিশ্বের অন্যতম দুই শীর্ষ শিপিং জায়ান্ট সিএমএ সিজিএম ও হ্যাপাগ-লয়েড।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এক নির্বাহী আদেশের পর কিউবায় সব ধরনের বুকিং স্থগিত করেছে বিশ্বের অন্যতম দুই শীর্ষ শিপিং জায়ান্ট সিএমএ সিজিএম ও হ্যাপাগ-লয়েড। গত রোববার কোম্পানি দুটি এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কিউবা থেকে পণ্য আনা ও সেখানে পণ্য পাঠানোর সব বুকিং বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়। খবর রয়টার্স।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১ মে এক নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এরপর আইনি ও বাণিজ্যিক ঝুঁকি এড়াতে কোম্পানি দুটি এ পদক্ষেপ নিল। তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে থাকা কিউবার জন্য একে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শিপিং খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্বের অন্যতম বড় দুই শিপিং কোম্পানির বুকিং স্থগিতের ফলে কিউবার সামগ্রিক আমদানি-রফতানি বাণিজ্য মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, এর ফলে দেশটির মোট শিপিং বাণিজ্যের প্রায় ৬০ শতাংশ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
কিউবায় জ্বালানি সংকট আগে থেকেই তীব্র। কারণ দেশটি দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন তেল অবরোধের মুখে রয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে কিউবার অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়ার উপক্রম হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
কিউবার অর্থনীতিতে সক্রিয় যেকোনো বিদেশী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। বিশেষ করে জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, ধাতু ও খনি, আর্থিক সেবা ও নিরাপত্তা খাতের সঙ্গে জড়িত ব্যবসাগুলো এর অন্তর্ভুক্ত। এ আদেশের মূল লক্ষ্য হলো কিউবার সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ব্যবসায়িক গোষ্ঠী ‘গায়েসা’র সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করা। বিশাল এ কোম্পানির ওপর যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই নানা নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, চীন থেকে কিউবায় পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা নতুন সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এছাড়া উত্তর ইউরোপ ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে কিউবার বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। তবে পরোক্ষভাবে বিশ্বব্যাপী কিউবামুখী সব ধরনের শিপিং ব্যবস্থার ওপরই এর প্রভাব পড়বে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে কিউবায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র ঘাটতি রয়েছে ও অনেক পণ্যই রেশন করে দেয়া হচ্ছে। শিপিং বন্ধ হওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য জরুরি পণ্যের জোগান বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। তবে কিউবা সরকার এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
হ্যাপাগ-লয়েড ও সিএমএ সিজিএমের সামনে এখন কয়েকটি বিকল্প পথ খোলা রয়েছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। কোম্পানি দুটি চাইলে কিউবার সঙ্গে ব্যবসা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিতে পারে। অথবা তারা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে একটি বিশেষ চুক্তি করতে পারে। এ চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠান দুটি কিউবার সরকারি খাতকে বাদ দিয়ে শুধু বেসরকারি খাতের সঙ্গে পণ্য পরিবহনের অনুমতি পেতে পারে।
এ জাতীয় আরো খবর..