খুচরা পণ্য বিক্রি বাড়ার গতি কমেছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনে।
চলতি বছরের এপ্রিলে দেশটির খুচরা বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। কভিড-১৯ মহামারীর পর এটিই সবচেয়ে ধীরগতির প্রবৃদ্ধি, যা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে। চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর (এনবিএস) গতকালের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
চীনের মানুষের কেনাকাটার আগ্রহ বোঝার প্রধান মাধ্যম হলো খুচরা পণ্য বিক্রি। গত মার্চে খাতটির প্রবৃদ্ধি ছিল ১ দশমিক ৭ শতাংশ। এর আগে রয়টার্সের এক জরিপে অর্থনীতিবিদরা এপ্রিলে ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রকৃত চিত্র তার চেয়ে অনেক নিচে নেমে গেছে। এর আগে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে কভিড-১৯ মহামারীর লকডাউনের সময় চীনে খুচরা বিক্রিতে এমন ধীরগতি দেখা যায়।
এনবিএসের কর্মকর্তারা জানান, দেশটির বাজারে গাড়ি বিক্রি কমে যাওয়াই এর প্রধান কারণ। এক বিবৃতিতে তারা বলেন, গাড়ি বাদে অন্যান্য খুচরা পণ্যের বিক্রি এপ্রিলে ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৩ লাখ ৪২ হাজার ১৮০ কোটি ইউয়ানে (প্রায় ৫০ হাজার ২৪০ কোটি ডলার) দাঁড়িয়েছে।
চায়না প্যাসেঞ্জার কার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে দেশজুড়ে গাড়ি বিক্রি আগের বছরের তুলনায় ২১ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। এ নিয়ে টানা সাত মাস দেশটিতে গাড়ি বিক্রি নিম্নমুখী রয়েছে।
এছাড়া এপ্রিলে শিল্পোৎপাদন বাড়ার হার কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে, যা মার্চে ছিল ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। ইস্পাত, সিমেন্ট, ইথিলিন ও গাড়ি উৎপাদন কমে যাওয়ায় এ ধীরগতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি আবাসন খাতের দীর্ঘমেয়াদি সংকট চীনের অর্থনীতিকে বড় চাপে রেখেছে।
চলতি বছরের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি-এপ্রিল) আবাসন খাতে বিনিয়োগ গত বছরের তুলনায় ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। এছাড়া স্থায়ী সম্পদে বিনিয়োগ কমেছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্যদিকে বছরের প্রথম তিন মাসে এ খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল ১ দশমিক ৭ শতাংশ।
একই সঙ্গে চীনে গত ৪৫ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে ‘ফ্যাক্টরি গেট ইনফ্লেশন’ বা উৎপাদক পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি। দেশটির সরকারি তথ্য বলছে, এপ্রিলে চীনের প্রডিউসার প্রাইস ইনডেক্স (পিপিআই) গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। এনবিএসের পরিসংখ্যানবিদ হুও লিহুই জানান, নন-ফেরাস মেটাল (তামা বা অ্যালুমিনিয়াম জাতীয় ধাতু), তেল, গ্যাস ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের দাম বেড়ে যাওয়াই এর মূল কারণ।
অক্সফোর্ড ইকোনমিকস এক নোটে জানায়, ২০২৬ সালে চীনের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৭ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। তবে ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের চীনবিষয়ক প্রধান জুলিয়ান ইভান্স-প্রিচার্ড মনে করেন, এ ডেটা হতাশাজনক হলেও এখনই আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, চীন ২০২৮ সালের মধ্যে প্রতি বছর অন্তত ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের মার্কিন কৃষিপণ্য কিনতে রাজি হয়েছে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়াতে কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক কমাতেও একমত হয়েছে বেইজিং ও ওয়াশিংটন।
এ জাতীয় আরো খবর..