যুদ্ধের কারণে অন্তত ২৭৯টি কোম্পানি বাড়তি খরচ কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। কেউ পণ্যের দাম বাড়িয়েছে। কেউ উৎপাদন কমিয়েছে। আবার কেউ লভ্যাংশ স্থগিত করেছে। কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মীদের ছুটিতে পাঠিয়েছে। অনেকে বাড়তি জ্বালানি খরচ গ্রাহকের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। আবার কিছু কোম্পানি সরকারি সহায়তাও চেয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বড় বড় সব কোম্পানির খরচ দ্রুত বাড়ছে। এখন পর্যন্ত এ সংঘাতের ফলে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত ব্যয় বা ক্ষতি দাঁড়িয়েছে অন্তত ২৫ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন তালিকাভুক্ত কোম্পানির প্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, জ্বালানির দাম বাড়া, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে। ইরান এ জলপথের নিয়ন্ত্রণ কড়াকড়ি করায় প্রায় আড়াই মাসে বিশ্ব বাণিজ্যে বড় প্রভাব পড়েছে। কারণ বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি।
রয়টার্সের বিশ্লেষণ বলছে, যুদ্ধের কারণে অন্তত ২৭৯টি কোম্পানি বাড়তি খরচ কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। কেউ পণ্যের দাম বাড়িয়েছে। কেউ উৎপাদন কমিয়েছে। আবার কেউ লভ্যাংশ স্থগিত করেছে। কিছু প্রতিষ্ঠান কর্মীদের ছুটিতে পাঠিয়েছে। অনেকে বাড়তি জ্বালানি খরচ গ্রাহকের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। আবার কিছু কোম্পানি সরকারি সহায়তাও চেয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতি এমনিতেই গত কয়েক বছর একের পর এক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। করোনার প্রভাব কাটার আগেই শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এরই মধ্যে নতুন করে শুরু হয় ইরানকে ঘিরে সংঘাত। ফলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা আরো বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গৃহস্থালি পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্লপুলের প্রধান নির্বাহী মার্ক বিটজার জানান, বর্তমান পরিস্থিতি ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকট কিংবা অন্যান্য মন্দা সময়ের চেয়েও গুরুতর। পরিস্থিতি বিবেচনা করে কোম্পানিটি পুরো বছরের আয়ের পূর্বাভাস অর্ধেক কমিয়ে দিয়েছে ও লভ্যাংশ দেয়া স্থগিত করেছে।
তিনি বলেন, ‘মানুষ এখন নতুন পণ্য কেনার বদলে পুরনো জিনিস মেরামত করে ব্যবহার করছে। ফলে বিক্রি কমছে।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে এলে পণ্যের দাম নির্ধারণের ক্ষমতা কমে যায় কোম্পানিগুলোর। একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এতে মুনাফার ওপর চাপ বাড়ে। অন্যদিকে পণ্যের দাম বাড়তে থাকলে মূল্যস্ফীতিও বাড়তে পারে। এতে সামনের দিনে ভোক্তাদের আস্থায় আরো চাপ পড়বে।
শুধু একটি বা দুটি প্রতিষ্ঠান নয়, বিশ্বের বড় অনেক কোম্পানিই এখন যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে সতর্ক করছে। ভোগ্যপণ্য নির্মাতা প্রোক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বল (পিঅ্যান্ডজি), মালয়েশিয়ার জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী প্রস্তুতকারী ক্যারেক্স ও জাপানের গাড়ি নির্মাতা টয়োটা জানিয়েছে, সংঘাত দীর্ঘ হলে ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়বে। টয়োটা এরই মধ্যে ৪৩০ কোটি ডলারের সম্ভাব্য লোকসানের কথা জানিয়েছে।
রয়টার্সের পর্যালোচনায় দেখা যায়, যুদ্ধের কারণে সরাসরি আর্থিক ক্ষতির কথা জানিয়েছে পাঁচ ভাগের এক ভাগ কোম্পানি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রসাধনী, টায়ার, ডিটারজেন্ট, ক্রুজ পরিচালনা ও উড়োজাহাজ পরিবহন খাতের প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠানগুলো। কারণ এসব অঞ্চলে আগেই জ্বালানি ব্যয় ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এছাড়া এশিয়ার অনেক দেশ মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সেখানকার কোম্পানিগুলোও চাপে পড়েছে।
এ জাতীয় আরো খবর..