দীর্ঘ চার দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে ফিরছে ইরাক। আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য ৩৪ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে আরবের এই দেশটি। তবে দীর্ঘ বিরতি পর বিশ্বকাপে ফিরলেও গ্রুপ পর্বেই চরম কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হচ্ছে ‘লায়ন্স অব মেসোপটেমিয়া’ খ্যাত দলটিকে।
বিশ্বকাপের ‘আই’ গ্রুপে ইরাকের প্রতিপক্ষ ফুটবল বিশ্বের দুই অন্যতম সেরা তারকা কিলিয়ান এমবাপে ও আর্লিং হালান্ডের দল। এই গ্রুপে তাদের লড়তে হবে টানা দুবারের ফাইনালিস্ট শক্তিশালী ফ্রান্স এবং আক্রমণভাগে হালান্ড-সমৃদ্ধ নরওয়ের বিপক্ষে। গ্রুপের অন্য প্রতিপক্ষটি হলো আফ্রিকার পরাশক্তি সেনেগাল।
ইরাকের ঘোষিত এই স্কোয়াডে অনুমিতভাবেই বড় তারকাদের ওপর ভরসা রেখেছেন কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড। মাঝমাঠ সামলানোর দায়িত্বে থাকছেন আমির আল আমারি এবং উইংয়ে গতি ছড়াবেন তরুণ তুর্কি আলী জসিম। তবে সবচেয়ে বড় স্বস্তি বলিভিয়ার বিপক্ষে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে ঐতিহাসিক জয়সূচক গোল করা স্ট্রাইকার আইমেন হুসেইনের উপস্থিতি। এছাড়া ইনজুরির কারণে সেই গুরুত্বপূর্ণ প্লে-অফ ম্যাচটি মিস করা নিয়মিত অধিনায়ক ও গোলরক্ষক জালাল হাসানও পুরোপুরি ফিট হয়ে দলে ফিরেছেন।
ঘোষিত স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে জায়গা পেয়েছেন তিন নবাগত ফুটবলার—ফুলব্যাক দারিও নামো, জুসেফ নাসরাওয়ে এবং অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার আহমেদ কাসেম। এই তিন ফুটবলারই এর আগে যথাক্রমে ফিনল্যান্ড, জার্মানি ও সুইডেনের যুব জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। তবে এবার নিজেদের পৈতৃক শিকড়ে ফিরে ইরাকের জাতীয় দলের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা, যা বিশ্বকাপের মঞ্চে দলটিকে বাড়তি শক্তি জোগাবে।
আগামী ১৬ জুন বোস্টন স্টেডিয়ামে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে ইরাক। এরপর ২২ জুন ফিলাডেলফিয়াতে পরাশক্তি ফ্রান্স এবং ২৬ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সেনেগালের মুখোমুখি হবে তারা। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের পর এই প্রথম বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়া ইরাককে নিয়ে ফুটবল রোমান্টিকদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে। এমবাপে-হালান্ডদের রুখে দিয়ে আরবের এই দেশটি কতদূর যেতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।