পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র সাত দিন বাকি। কুরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার জন্য ধারালো দা-বঁটি-ছুরির চাহিদা এখন তুঙ্গে। লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার কামারের দোকানগুলোতে চলছে কর্মব্যস্ততা।
উপজেলার কামারহাট, রামগঞ্জ, সোনাপুর, পানিওয়ালা ও গাজীপুর বাজারসহ সব হাটবাজারে কামাররা দিনরাত হাতুড়ি পেটাচ্ছেন। লোহা পোড়ানোর গন্ধ আর হাতুড়ির ঠনঠন শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।
কামারহাট বাজারের কামার উত্তম কুমার জানান, সারা বছরের তুলায় ঈদুল আজহার আগের দুই-তিন সপ্তাহ আমাদের জন্য সোনালি সময়। এ সময় প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়। ক্রেতাদের ভিড় এতটাই বেশি যে, অর্ডার নিতে নিতেই দিন শেষ হয়ে যায়।
সোনাপুর বাজারের প্রবীণ কামার রাজীব বলেন, ঈদের আগের এই কয়েকটা দিনই আমাদের মূল উপার্জনের সময়। নতুন দা-বঁটি তৈরি করছি, পুরোনোগুলো শান দিচ্ছি। কাজের এতো চাপ যে, খাওয়ার সময়টুকুও পাই না।
এ বছর কামারদের দোকানে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে কুরবানির ছুরি, দা ও বঁটির। পাশাপাশি হাড় ভাঙার কাজে ব্যবহৃত চাপাতি ও কুড়ালও বিক্রি হচ্ছে প্রচুর। পুরোনো দা-ছুরি শান দেওয়ার কাজও চলছে সমান তালে।
পানিওয়ালা বাজারের কামার বিপুল মিয়া বলেন- লোহার দাম, কয়লার দাম সব বেড়েছে; তবু ঈদের আনন্দে মানুষ কিনছেন। আমাদেরও ভালো লাগছে। এ বছর বেচা-বিক্রি ভালোই চলছে। শহরে স্টিলের ছুরি-চাকু আসলেও গ্রামাঞ্চলে এখনো লোহার তৈরি দেশীয় দা-বঁটির চাহিদা কমেনি। মানুষের বিশ্বাস, হাতে তৈরি লোহার অস্ত্র বেশি টেকসই এবং ধার বেশিক্ষণ টেকে।
রামগঞ্জ বাজারে কুরবানির দা কিনতে আসা আবদুল করিম বলেন, প্রতি বছর ঈদের আগে এখান থেকেই দা কিনি। দেশীয় কারিগরের হাতের কাজ অনেক ভালো। দাম একটু বেশি হলেও মান ভালো।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ বছর রামগঞ্জ উপজেলায় কুরবানির পশুর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে, কামারদের ব্যস্ততাও আগামি কয়েকদিন আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে উৎসবের এ ব্যস্ততায় কিছু সমস্যাও রয়েছে বলে জানান কামাররা। কাজ প্রচুর, কিন্তু কামারির কাজে আগ্রহী শ্রমিক পাওয়া কঠিন। নতুন প্রজন্ম এ পেশায় আসতে চাইছে না, এটা চিন্তার বিষয়।
কামাররা সরকারের কাছে এ ঐতিহ্যবাহী পেশাকে টিকিয়ে রাখতে সহজ শর্তে ঋণ, প্রশিক্ষণ এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানান।
এ জাতীয় আরো খবর..