‘চায়না শক ২.০’:

ভয়াবহ শিল্পহীনতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে জার্মানি

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-২০, | ১৭:৫০:০৪ |

চীনের অর্থনৈতিক উত্থানকে কেবল প্রশংসা করে গেলে জার্মানি ভয়াবহ শিল্পহীনতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে ব্রাসেলসভিত্তিক থিংকট্যাংক সেন্টার ফর ইউরোপিয়ান রিফর্ম (সিইআর)। সংস্থাটি বলছে, ২৫ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের ‘চায়না শক’-এর ধাক্কায় শিল্প ও কর্মসংস্থানের বড় ক্ষতির মুখে পড়েছিল, জার্মানিও এখন সে পথের দিকে হাঁটছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

সিইআরের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে জার্মানির সঙ্গে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত দ্বিগুণ হয়ে ১২ বিলিয়ন ডলার থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এতে দুই দেশের মধ্যে মোট বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা দাঁড়িয়েছে ৯৪ বিলিয়ন ডলারে।

২০০১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রে চীনা আমদানির হঠাৎ প্রবাহ যে ‘চায়না শক ১.০’ সৃষ্টি করেছিল। এ ঘটনায় ২৫ লাখ মানুষ বেকার হওয়ার পাশাপাশি শিল্পনির্ভর মার্কিন শহরগুলোয় আত্মহত্যা, বিবাহবিচ্ছেদ ও মাদকাসক্তির মতো সামাজিক সংকটও বেড়ে গিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সে অভিজ্ঞতা এখন জার্মানির জন্য ‘ভৌতিক সতর্ক সংকেত’ বলে জানিয়েছে সিইআর। বিশেষ করে ভক্সওয়াগনের শহর উলফসবুর্গ ও মার্সিডিজ-বেঞ্জের কেন্দ্র স্টুটগার্টের মতো শিল্পনগরীগুলোর জন্য।

4760

‘চায়না শক ২.০: দ্য কস্ট অব জার্মানিজ কমপ্লেসেন্স’ শিরোনামের প্রতিবেদনে সিইআর জানিয়েছে, শি জিনপিংয়ের সুনির্দিষ্ট পাঁচ বছর মেয়াদি নীতিমালার ওপর ভর করে চীনের রফতানি বিস্ফোরণ বিশ্বজুড়ে দ্বিতীয় ‘চায়না শক’ তৈরি করেছে, যা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শিল্পখাত ও কর্মসংস্থানকে বিপন্ন করে তুলছে। তবে এ ধাক্কা অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় জার্মানির ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে এবং পরিস্থিতি দিন দিন আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেইজিং ‘১০ হাজার লিটল জায়ান্টস’ নামে একটি নীতিগত কর্মসূচি চালু করেছে, যার লক্ষ্য জার্মানির ‘মিটেলস্ট্যান্ড’—অর্থাৎ মাঝারি আকারের উদ্ভাবনী শিল্প ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ভিত্তিকে দুর্বল করা। অথচ এ সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জার্মানি চীনের দিকে নজর না দিয়ে উচ্চ জ্বালানি মূল্য ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মতো অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোকে সামনে এনে নিজেদের অর্থনৈতিক দুর্দশার জন্য ‘অপরাধী’ খুঁজতে ব্যস্ত।

এ সংকটের মূল কারণ বিশ্বজুড়ে চীনের রেকর্ড পরিমাণ রফতানি রপ্তানি বৃদ্ধি ও বিপরীতে তাদের নিজেদের দেশে আমদানি হ্রাস। ফলস্বরূপ, ২০২৫ সালে চীন বিশ্ববাজারে রেকর্ড ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অর্জন করেছে।

সিইআর অর্থনৈতিক ভারসাম্যহীনতার জন্য তিনটি বড় কারণ চিহ্নিত করেছে—

  • চীনের অভ্যন্তরীণ চাহিদার দুর্বলতা,
  • ইউরোর তুলনায় ইউয়ানের সম্ভাব্য ৪০ শতাংশ অবমূল্যায়িত বিনিময় হার,
  • জার্মানির মূল শিল্পখাতকে লক্ষ্য করে বেইজিংয়ের কৌশলগত শিল্পনীতি।

4188

থিংকট্যাংকটি ইউরোপের রাজনৈতিক নেতাদের দ্রুত জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, এ ধাক্কা আপনাআপনি ঠিক হয়ে যাবে এমন প্রত্যাশা কোনো দূরদর্শিতা নয়, বরং এর অর্থ হলো নিজের দেশের শিল্পখাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়া।

সিইআর মনে করে, বার্লিনের জন্য সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হবে ফ্রান্সের সঙ্গে একযোগে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও জি-৭ জোটের মাধ্যমে চীনের মুদ্রা অবমূল্যায়ন এবং একপাক্ষিক বাণিজ্য মডেলের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করা।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..