ভারতের উত্তরপ্রদেশের নয়ডার সেক্টর ২২ এলাকায় পিৎজা তৈরির সময় তাতে থুতু দেওয়ার অভিযোগে এক দোকান মালিককে আটক করেছে পুলিশ।
অভিযুক্ত ব্যক্তির পিৎজা তৈরির সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং দোকানের সামনে শুরু হয় বিক্ষোভ।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মোজাম্মিল, যিনি চৌরা গ্রামে ‘পিৎজা হান্ট’ নামে একটি দোকান পরিচালনা করেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, মোজাম্মিল পিৎজার রুটির ওপর থুতু ছিটিয়ে সেটি ওভেনে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা দোকানের সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন এবং এক পর্যায়ে অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
সেক্টর ২৪ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মোজাম্মিলকে হেফাজতে নেয়। পুলিশ দোকান থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছে এবং ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সেটি ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ভিডিওটি কখন এবং কোন পরিস্থিতিতে ধারণ করা হয়েছে তা আমরা খতিয়ে দেখছি। এটি কোনোভাবে এডিট করা কিনা- তাও পরীক্ষা করা হবে।’ এই ঘটনায় দোকানের অন্য কর্মচারীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
খাবারে থুতু দেওয়ার ঘটনা ভারতে অবশ্য নতুন নয়। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে গাজিয়াবাদে একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল। সেখানে ‘চিকেন পয়েন্ট’ নামের একটি রেস্তোরাঁর কর্মী জাভেদ আনসারি তন্দুরি রুটিতে থুতু দেওয়ার অভিযোগে আটক হয়েছিলেন। সেই ভিডিওটিও ভাইরাল হওয়ার পর সেবারও জনরোষ তৈরি হয়েছিল।
বারবার এ ধরনের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনস্বাস্থ্য এবং খাদ্যের মান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
এ জাতীয় আরো খবর..