✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-০৬, | ২০:১৮:১৭ |ইরানে চলমান সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরান বলছে, তারা নিজেদের জাতীয় স্বার্থ মাথায় রেখেই সমঝোতা করবে। ঠিক এমন সময়ে মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে এক পৃষ্ঠার ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে।
বুধবার (৬ মে) সূত্রের বরাতে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, খুব শিগগিরই সমঝোতা স্বাক্ষর সম্পন্ন হবে। সেটি চূড়ান্ত পর্যায়ের খুব কাছাকাছি। সূত্রের বরাতে এমন খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সও।
রয়টার্স জানিয়েছে, উভয়পক্ষের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। দ্রুতই একটি এক পৃষ্ঠার মেমোতে সমঝোতা হতে পারে। সেই মেমোতে থাকছে ১৪টি দফা। প্রশ্ন হচ্ছে কি আছে ওই খসড়ায়?
অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, এই স্মারকটি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করবে এবং একটি বিস্তারিত চুক্তির জন্য ৩০ দিনের আলোচনার সূচনা করবে। ওই চুক্তির লক্ষ্য হবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা।
অ্যাক্সিওসের তথ্যমতে, ওই ৩০ দিনের সময়ে ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলে আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ধীরে ধীরে তুলে নেওয়া হবে।
সমঝোতার খসড়া অনুযায়ী, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দেবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে এবং আটকে থাকা কয়েকশ কোটি ডলার অর্থ ছাড় দেবে।
এক মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, যদি আলোচনা ভেঙে যায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র আবার অবরোধ জোরদার বা সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করতে পারবে। ইতোমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন।
এরআগে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, আমরা পারস্পরিকভাবে একমত হয়েছি অবরোধ পুরোপুরি বহাল থাকলেও, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হবে—যাতে দেখা যায় চুক্তিটি চূড়ান্ত করে স্বাক্ষর করা সম্ভব কি না।
তবে চীন সফরকালে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে কিছু না বললেও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, তেহরান ‘ন্যায্য ও সমন্বিত একটি চুক্তি’ প্রত্যাশা করছে। তবে নতুন এই খসড়া যুদ্ধ বন্ধের পথ প্রশমিত করছে বলে বিশ্লেষকদের মত।