সর্বশেষ :
স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে দেশের প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ডলফিনের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড চীন, সরানো হলো ১০ লাখের ‍অধিক মানুষ ইরান ইস্যুতে কার্টারের মতোই ফাঁদে পড়েছেন ট্রাম্প! আইসিসির ‘প্লেয়ার অফ দ্য মান্থ’ পুরস্কারের তালিকায় তানজিদ হরমুজ খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা, বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম বাংলা কিউআর কোডে লেনদেন হবে ফ্রি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি : রিজভী আইসিসির সেরা ক্রিকেটারদের তালিকায় ম্যাথিউস-হারশিতা ও সিভার রদ্রিকে দলে ভেড়াতে মরিয়া বার্সেলোনা, অনিশ্চিত ডি ইয়ংয়ের ভবিষ্যৎ এশিয়ার তেলের বাজারের ‘ইরান-ধাক্কা’ একাই সামলে দিচ্ছে চীন

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রকে দোষারোপ করল ইরান

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৪-৩০, | ১৯:০৬:০৩ |
জাতিসংঘে নিউক্লিয়ার নন-প্রোলিফারেশন ট্রিটি (এনটিপি) পর্যালোচনা ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। তেহরান অভিযোগ করেছে, এই সম্মেলনকে ব্যবহার করে ওয়াশিংটন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ভুলভাবে তুলে ধরছে এবং নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) ইরানের স্থায়ী মিশন এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার পূর্ণ তত্ত্বাবধানে রয়েছে। দেশটির পারমাণবিক উপাদান সরানোর কোনো প্রমাণ নেই। 

একই সঙ্গে ইরানের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ইরানের বিরুদ্ধে হামলার নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হয়েছে। উল্টো পরিস্থিতিকে ‘ভুক্তভোগী বনাম আগ্রাসী’ হিসেবে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে।

ইরান দাবি করে, জাতিসংঘের সিকিউরিটি কাউন্সিল, আইএইএ মহাপরিচালক এবং বোর্ড অব গভর্নরস ‘অবৈধ হামলার নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হয়েছে’ এবং উল্টো ভুক্তভোগী ও আক্রমণকারীর ভূমিকা পাল্টে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।

তেহরান আরও বলে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের পারমাণবিক কার্যক্রমকে হুমকি হিসেবে তুলে ধরছে। এনপিটি ফোরামকে রাজনৈতিক বর্ণনা প্রচারের জন্য ব্যবহার করছে, যেখানে নিরস্ত্রীকরণ সংক্রান্ত বৃহত্তর দায়িত্বগুলো উপেক্ষা করা হচ্ছে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরভানি সতর্ক করে বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থায়ী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটার নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং ইরানের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করতে হবে।

তিনি সম্মেলনে আরও বলেন, হরমুজ প্রণালী ও ওমান উপসাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নৌ চলাচলের স্বাধীনতাকে ইরান সমর্থন করে। তবে তিনি সতর্ক করেন, সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে তা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তাকে দুর্বল করে দিতে পারে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে তিনি নিরাপত্তা পরিষদকে আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা ক্রিস্টোফার ইয়াও ইরানের এই নির্বাচনকে ‘চুক্তির জন্য অপমানজনক’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ইরান দীর্ঘদিন ধরে এনপিটির অপ্রসারণ প্রতিশ্রুতির প্রতি অবজ্ঞা দেখিয়েছে।

অন্যদিকে, আইএইএ-তে ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা নাজাফি এসব মন্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, যে দেশ একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে এবং এখনো নিজের পারমাণবিক ভাণ্ডার আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ করছে—সেই যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে চুক্তি মানা হচ্ছে কি না তার বিচারক হিসেবে উপস্থাপন করছে—এটি গ্রহণযোগ্য নয়।

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ঘিরে চলমান সংঘাতে পারমাণবিক ইস্যুটি এখন কেন্দ্রে রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না। অন্যদিকে, তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..