✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৩-১৬, | ১১:৩০:৪২ |ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এই কৌশলগত জলপথটি সচল ও নিরাপদ রাখতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন মিত্র দেশগুলোকে নিজেদের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর জন্য জরুরি আহ্বান জানিয়েছে। তবে, তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং যুদ্ধের ভয়াবহতা বিবেচনায় অধিকাংশ রাষ্ট্রই ট্রাম্পের এই প্রস্তাবে সরাসরি সাড়া না দিয়ে এক ধরনের নীরবতা পালন করছে।
আল-জাজিরায় প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কীভাবে ইরান এই জলপথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেশভেদে ভিন্ন ভিন্ন নীতি গ্রহণ করছে এবং ট্রাম্পের সামরিক জোট গঠনের চেষ্টা কেন এখন পর্যন্ত সফলতার মুখ দেখছে না।
ট্রাম্পের আহ্বান
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লিখেছেন, ‘চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ব্রিটেন যেন দ্রুত ওই এলাকায় জাহাজ পাঠায়।’ তিনি দাবি করেন, ‘ইরান বর্তমানে চরম বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে, তাই হরমুজ প্রণালি আর হুমকির কারণ হওয়া উচিত নয়।’
এদিকে মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, তিনি ট্রাম্পের উল্লিখিত দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছেন। তিনি আশা করছেন, চীন এই সংকট নিরসনে একটি গঠনমূলক সহযোগী হিসেবে কাজ করবে। তবে, দেশগুলোর পক্ষ থেকে এখনও কোনো স্পষ্ট আশ্বাস পাওয়া যায়নি।

আলোচনাতে সমাধান
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত চীনের দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ জানিয়েছেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সবার দায়িত্ব। উত্তেজনা কমাতে চীন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে দেবে। মূলত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে।
তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্ব তেলের এক-পঞ্চমাংশ যে পথ দিয়ে যায়, সেই হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ছাড়া সবার জন্য উন্মুক্ত। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, অনেক দেশই তাদের জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ইরানের সেনাবাহিনী।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনার পর গত শনিবার ভারতের দুটি গ্যাস ট্যাংকার নিরাপদে ওই পথ পার হতে পেরেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, আলোচনার মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০টি তেলের ট্যাংকারে হামলার খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। প্রায় এক হাজার তেলের ট্যাংকার এখন হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়ে আছে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে যে, এই যুদ্ধ খুব দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের এই মিশনে অংশ নেবে না। কারণ, ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে চীনের তেলের জাহাজগুলো কোনো বাধা ছাড়াই চলাচল করছে। ইরান মূলত কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলপন্থী দেশগুলোর তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিচ্ছে।
অন্যদিকে ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক মিশনের মাধ্যমে জাহাজ পাহারা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ভাবছে, তবে তা যুদ্ধ থামার পর। জার্মানি এই পরিকল্পনার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। তারা সরাসরি এই যুদ্ধের অংশ হতে চায় না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে।
সাহস থাকলে জাহাজ পাঠান
এরই মধ্যে খবর ছড়িয়েছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন চলতি সপ্তাহেই একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের ঘোষণা দিতে পারে। তবে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলি মোহাম্মদ নাইনি ট্রাম্পকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প যদি মনে করেন ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে, তবে সাহস থাকলে তিনি যেন নিজের জাহাজ পারস্য উপসাগরে পাঠান।’
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ শুরু পর ইরান এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০০টি মিসাইল নিক্ষেপ করেছে। যার বেশির ভাগই পুরোনো; নতুন মিসাইলের ব্যবহার এখনও শুরু হয়নি। এছাড়া আমাদের অস্ত্রভাণ্ডার অক্ষত রয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা।