ঢাকার ধামরাইয়ে লিকেজ থেকে চুলার গ্যাস বিস্ফোরণে স্বামী ও স্ত্রী দগ্ধ হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ধামরাই পৌরসভার কিষাননগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তাদের ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়েছে।
দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন- ধামরাই পৌরসভার বিজয়নগর মহল্লার বাসিন্দা সুমনা (৪৫) ও তার স্বামী বাদশা মিয়া (৫৫)।
স্থানীয়রা জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে কিষাননগর এলাকার বাদশা মিয়ার দ্বিতল ভবনের নিচতলার বাসার রান্না ঘরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দুই কক্ষবিশিষ্ট ওই বাসায় বাদশা মিয়া ও তার স্ত্রী সুমনা থাকেন। বিস্ফোরণে রান্না ঘরের ও পাশের একটি কক্ষের জানালার গ্রিলসহ অবকাঠামো বেশ কিছু অংশ ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের শব্দ শুনেই সেখানে ছুটে যান প্রতিবেশী নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, কক্ষে প্রবেশ করেই দেখতে পাই বাদশা-সুমনা দম্পতি দগ্ধ হয়ে ফ্লোরে পড়ে আছেন। এ সময় তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশ আগুনে ঝলসানো ছিল। পরে আশপাশের আরও ১০-১২ জন মিলে দগ্ধ স্বামী-স্ত্রীকে প্রথমে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সুমনার শরীরের ৮৫ ভাগ ও তার স্বামী বাদশা মিয়ার প্রায় ২০ ভাগ দগ্ধ হয়েছে। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাতেই ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।
ধামরাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, বাড়িটিতে তিতাস গ্যাসের সংযোগ আছে। তবে ওই দম্পতি কক্ষে সিলিন্ডার গ্যাসও ব্যবহার করতেন। সিলিন্ডারটি অক্ষত পাওয়া গেছে এবং সিলিন্ডারে গ্যাসও রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিতাসের গ্যাসের সংযোগ লিকেজ থেকে ঘরে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণে এ দুর্ঘটনা ঘটছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। দগ্ধ ব্যক্তিদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, বাদশা মিয়ার স্ত্রী সুমনার অবস্থা আশংকাজনক। তার পুরো শরীর দগ্ধ হয়েছে। আর বাদশা মিয়ার দুই হাতসহ প্রায় ২০ ভাগ দগ্ধ হয়েছে।
এ জাতীয় আরো খবর..