রোলস-রয়েসকে টক্কর দিতে চায় চীনা মেইক্সট্রো

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৫-২৮, | ২২:৫৭:১০ |
রোলস-রয়েসের মতো চেহারা, সোনালি অলংকরণ, ৪০ ইঞ্চির ডিসপ্লে আর প্রায় ৪০টি স্পিকার। বিলাসবহুল গাড়ির বাজারে এবার বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে চীনের নতুন সেডান ‘মেইক্সট্রো এস৮০০’।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন বলছে, প্রায় ১৮ ফুট দীর্ঘ এই গাড়িটি তৈরি হয়েছে চীনের হেফেই শহরে। তৈরিতে এক হাজারের বেশি রোবট ব্যবহার করেছে নির্মাতা কোম্পানি। আর এর প্রযুক্তিগত অংশে রয়েছে প্রযুক্তি কোম্পানি হুয়াওয়ের সফটওয়্যার ও সিস্টেম।

চীনা গাড়ি নির্মাতারা এরইমধ্যে সাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। প্রতিবেদন বলছে, এখন তারা নজর দিচ্ছে বিলাসবহুল গাড়ির খাতে।

মার্সিডিজ বা রোলস-রয়েসের মতো শত বছরের ঐতিহ্য নেই, ফলে প্রযুক্তি আর গ্যাজেট দিয়ে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে তারা।

মেইক্সট্রোর পেছনের আসনে বসা যাত্রীরা পাবেন ৪০ ইঞ্চির বড় ডিসপ্লে, প্রায় ৪০ স্পিকারের সাউন্ড সিস্টেম এবং প্রায় পুরোপুরি শোয়া যায় এমন আসন। এতে মাসাজ সুবিধাও রয়েছে।

গাড়িটি নিজে নিজে পার্ক করতে পারে। এমনকি দরজা খোলা বা বন্ধেও ব্যবহার হয়েছে হাতের অঙ্গভঙ্গিনির্ভর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।

পূর্ণাঙ্গ সংস্করণের গাড়িটির দাম পড়বে এক লাখ ৩০ হাজার পাউন্ড, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। আর সাশ্রয়ী মূল্যের সংস্করণটির দাম পড়বে ৭৭ হাজার পাউন্ড বা ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। দেশে কেউ এটা কিনতে চাইলে এই দামের সঙ্গে যোগ করতে হবে বিলাশবহুল গাড়ির আমদানি শুল্ক। এরপরও এই দাম মার্সিডিজ-মেইবাখ বা রোলস-রয়েসের তুলনায় অনেক কম।

গাড়িবিশেষজ্ঞ টমাস লুক বলছেন, “খুবই সাশ্রয়ী দামে এটি পূর্ণাঙ্গ বিলাসবহুল গাড়ি।”

“মেইক্সট্রো অবশ্যই মেইবাখ ও বিএমডব্লিউ সেভেন সিরিজকে চ্যালেঞ্জ করছে।”

২০২০ সালে বিশ্বজুড়ে চীন প্রায় ১০ লাখ গাড়ি বিক্রি করেছে। গত বছর সেই সংখ্যা ৭০ লাখ ছাড়িয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে প্রতিবেদনে। এর মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গাড়ি রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে চীন।

এখন পর্যন্ত মেইক্সট্রো শুধু চীনের বাজারেই বিক্রি হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারেও যাওয়ার পরিকল্পনার কথা বলেছে হুয়াওয়ে।

চীনের বাইরে বিক্রি করার লক্ষ্য থাকলেও, গাড়ির সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞার কারণে হুয়াওয়ের পণ্য সেখানে কার্যত নিষিদ্ধ। ফলে মার্কিন বাজারে মেইক্সট্রোর প্রবেশ সহজ হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

গাড়িটির উৎপাদন করছে হেফেইভিত্তিক জেএসি মোটরস, যাদের সঙ্গে আগে স্বল্পমূল্যের গাড়ির সম্পর্ক বেশি ছিল। সে কারণেই সম্ভবত নতুন গাড়িটির বিপণনে জেএসির বদলে হুয়াওয়েকেই সামনে রাখা হচ্ছে।

শোরুমেও গাড়িটির পাশে রাখা হচ্ছে হুয়াওয়ের দামি ফোল্ডএবল ফোন ও হীরাখচিত স্মার্টওয়াচ। এতে প্রযুক্তি ব্র্যান্ড ও গাড়ি নির্মাতার সীমারেখা আরও মিলিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ রয়েছে প্রতিবেদনে।

হুয়াওয়ের তথ্য অনুযায়ী, এক বছরে ১৭ হাজারের বেশি মেইক্সট্রো গাড়ি বিক্রি হয়েছে। চীনে উদ্যোক্তা ও শীর্ষ নির্বাহীদের মধ্যে গাড়িটির চাহিদা বেশি।

হুয়াওয়ের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড ইউ এপ্রিল মাসে ইঙ্গিত দিয়েছেন, জুনের মধ্যেই আরও উচ্চমূল্যের নতুন মডেল আনা হতে পারে। যার দাম হতে পারে ২ লাখ ২৫ হাজার পাউন্ড বা প্রায় ৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

গাড়িটিতে প্রবেশ করতে দরজার সামনে ‘হ্যান্ড জেশ্চার’ করলেই হয়, যা বাইরের ক্যামেরা শনাক্ত করে। ভেতরে হাত নাড়ালে দরজা বন্ধ হয়, আর আঙুলের ইশারায় জানালার পর্দা নেমে আসে।

ছাদের তারাভরা আলোকসজ্জা ও নরম কার্পেট ব্যবহার করে রোলস-রয়েসের বিলাসবহুল পরিবেশের ছাপ আনার চেষ্টা করেছে নির্মাতা।

তবে প্রতিবেদন উপসংহারে বলেছে, প্রযুক্তি উন্নত হলেও গাড়িটির সাসপেনশন ও চলাচলের মসৃণতা এখনও ইউরোপের পুরোনো বিলাসবহুল গাড়ির মান পুরোপুরি ছুঁতে আরও সময় লাগবে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..