জমি বিরোধে ৩৮ মাস পর বোনের ক ব র খুঁড়ে দে হা ব শেষ সরালেন ভাই

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৩-০৮, | ২২:৪৯:২৮ |
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে জমি নিয়ে বিরোধের সূত্র ধরে মৃত্যুর তিন বছর দুইমাস পর বোনের মরদেহ সরিয়ে অন্যত্র দাফন করলেন বড় ভাই। রোববার (৮ মার্চ) সকালে পলাশবাড়ী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশকাটা গ্রামে এই স্পর্শকাতর ঘটনা ঘটে।

জীবনে জমি নিয়ে বিরোধ নতুন কিছু নয়। কিন্তু সেই বিরোধ যদি মৃত্যুর পরও একজন মানুষের শেষ আশ্রয়টুকু কেড়ে নেয়—তখন তা শুধু একটি পারিবারিক দ্বন্দ্ব থাকে না, হয়ে ওঠে মানবিকতার গভীর ক্ষত। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই মানুষের মাঝে নেমে আসে শোক, ক্ষোভ ও বিস্ময়ের মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সহোদর বড় ভাই মমতাজ মিয়া ও ছোট বোন জোবে বেগম (৬০) এর পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। প্রায় তিন বছর দুইমাস আগে জোবে বেগম মারা গেলে তার স্বামী তারা মিয়ার নিজের কোনো জমি না থাকায় বড় ভাই মমতাজ মিয়ার জমিতেই তাকে দাফন করা হয়। তখন কেউ ভাবেনি, সেই কবরই একদিন নতুন বিরোধের কেন্দ্র হয়ে উঠবে।

সময়ের সাথে জমি ভাগাভাগি নিয়ে বোনের স্বামী তারা মিয়া ও বড় ভাই মমতাজ মিয়ার মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, মমতাজ মিয়ার স্ত্রী কোহিনুর বেগম তাদের জমি থেকে ননদের কবর সরিয়ে নিতে বারবার চাপ দিতে থাকেন।

শেষ পর্যন্ত সেই চাপের মুখেই রোববার সকালে প্রায় ৩৮ মাস আগে দাফন করা কবরটি খুঁড়ে মরদেহের মাথার খুলি ও হাড় উত্তোলন করে অন্যত্র পুনরায় দাফন করেন স্বামী তারা মিয়া।

কবরের সামান্য কয়েক হাত জমির কারণে এমন অমানবিক দৃশ্য দেখে অনেকেই স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। মৃত্যুর পরও একজন মানুষের শান্তির ঘরটুকু টিকে রইলো না—এই বাস্তবতা ভাবিয়ে তুলেছে পুরো এলাকাকে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পৌরসভার সাবেক পৌর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাহামুদুল হক। তিনি বলেন, অত্যন্ত অমানবিক, বেদনাদায়ক ও দুঃখজনক একটি ঘটনা। যা বলার ভাষা নেই।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..