ভ্যালেনটাইনস ডে সামনে এলেই অনলাইন প্রতারকদের তৎপরতা বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে অনেকেই অপরিচিত নম্বর থেকে হঠাৎ করে ফ্লার্টি বা বন্ধুসুলভ টেক্সট মেসেজ পাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এগুলোর বেশিরভাগই রোমান্স স্ক্যাম— যার লক্ষ্য হলো আপনাকে কথোপকথনে জড়িয়ে ফিশিং লিংকে ক্লিক করানো বা ভুয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করা।
কিভাবে শুরু হয় ‘রং নাম্বার’ স্ক্যাম?
এই ধরনের প্রতারণা সাধারণত একটি নিরীহ বা বন্ধুসুলভ বার্তা দিয়ে শুরু হয়, যা দেখে মনে হয় ভুল করে অন্য কারও কাছে পাঠানো হয়েছে।
বার্তায় থাকতে পারে জরুরি কোনও বিষয়— যেমন চিকিৎসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট, পুরনো প্রেমের স্মৃতি, কিংবা অফিস সংক্রান্ত সমস্যা। উদ্দেশ্য একটাই: প্রাপক যেন সহানুভূতি বা কৌতূহলবশত উত্তর দেন।
আপনি একবার উত্তর দিলেই প্রতারক ক্ষমা চেয়ে কথোপকথন চালিয়ে যায়। ধীরে ধীরে আলাপ গড়ায় ব্যক্তিগত ও রোমান্টিক দিকে।
কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহ পর শুরু হয় আসল ফাঁদ— নগদ অর্থ চাওয়া, ভুয়া ক্রিপ্টো ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব, কিংবা অনুদানের লিংক পাঠানো।
এরপর একসময় প্রতারক উধাও হয়ে যায়। ভুক্তভোগীর হাতে থাকে শুধু কিছু টেক্সট মেসেজ, আর হারিয়ে যায় অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য।
উত্তর দিলেই ঝুঁকি
সব ‘ভুল নম্বর’ মেসেজ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে শেষ না হলেও, উত্তর দিলেই আপনি ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
কারণ এতে আপনার নম্বরটি সক্রিয় হিসেবে চিহ্নিত হয় এবং সেটি পরবর্তীতে অন্য প্রতারকদের কাছে বিক্রি করা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে এখন হাজার হাজার বার্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠানো হচ্ছে। ডাটা ব্রোকার ওয়েবসাইটে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে বার্তাগুলো ব্যক্তিগতকৃতও হতে পারে।
সন্দেহজনক মেসেজ পেলে কী করবেন?
১. উত্তর দেওয়ার আগে নম্বর যাচাই করুন
গুগল বা অন্য সার্চ ইঞ্জিনে নম্বরটি খুঁজে দেখুন। অনেক সময় স্প্যাম রিপোর্টিং সাইটে নম্বরের তথ্য পাওয়া যায়।
২. ব্লক, ডিলিট ও রিপোর্ট করুন
যদি নিশ্চিত হন এটি প্রতারণা, তাহলে নম্বরটি ব্লক করুন, মেসেজ মুছে ফেলুন এবং মোবাইল অপারেটরকে স্প্যাম হিসেবে রিপোর্ট করুন। এতে ভবিষ্যতে প্রতারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সহায়তা হয়।
৩. অপরিচিত লিংকে ক্লিক করবেন না
অপরিচিত নম্বর থেকে পাঠানো কোনো লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন। এগুলো ফিশিং সাইট হতে পারে, যা আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে পারে।
৪. মেসেজ ফিল্টার চালু করুন
আইফোন ব্যবহারকারীরা মেসেজ ফিল্টার চালু করতে পারেন। অ্যান্ড্রয়েডেও অপরিচিত প্রেরকের মেসেজ আলাদা ফোল্ডারে চলে যায়।
৫. ব্যক্তিগত তথ্য সরিয়ে ফেলুন
ডাটা ব্রোকার ওয়েবসাইট থেকে নিজের নাম ও নম্বর সরানোর উদ্যোগ নিন, অথবা ডাটা রিমুভাল সার্ভিস ব্যবহার করতে পারেন।
অপরিচিত নম্বর থেকে আসা বার্তায় উত্তর না দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। প্রতারকদের সঙ্গে বুদ্ধির লড়াইয়ে নামা আকর্ষণীয় মনে হলেও, তারা অনেক বেশি সংগঠিত ও প্রযুক্তিনির্ভর। তাই মনে রাখুন—
রিপ্লাই নয়, ক্লিক নয়, শেয়ার নয়।
এ জাতীয় আরো খবর..