জামায়াত নেতার সুরতহাল সম্পন্ন, মাথা-কপালে-নাকে আঘাতের চিহ্ন

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০১-২৯, | ১৩:১৫:৫৬ |
ময়মনসিংহের শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) সংসদীয় আসনে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণার মঞ্চে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে নিহত জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিমের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি সম্পন্ন হয়েছে। এতে তার মাথার পেছনে, কপালে ও নাকে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। 

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বেল ১১টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাশ ঘরে এই সুরতহার রিপোর্ট তৈরি করা হয়। 

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মা. মাসুদ জামালী নিহতের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেন। তিনি খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, নিহতের মাথার পেছন দিকে থ্যাঁতলানো অবস্থা দেখা গেছে। এ ছাড়া, তার কপাল এবং নাকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।  

এ সময় লাশ ঘরে উপস্থিত নিহতের ছোট ভাই শ্রীবর্দী মথুরাধি দাখিল মাদরাসার শিক্ষক মো. মাসুদুর রহমান বলেন, হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের লাশ শ্রীবর্দী নিজ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে বিকেল ৫টায় শ্রীবর্দী সরকারি কলেজ মাঠে প্রথম জানাজা এবং রাত সাড়ে ৮টায় নিজ গ্রাম গোপালখিলা স্কুলের খেলার মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পারিবারিক গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।

ভাই হত‍্যার বিচার চেয়ে মাসুদুর রহমান বলেন, আমার ভাইকে নৃশংসভাবে হত‍্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক বিচার দাবি করছি।

এ সময় মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলার এজাহার লেখার কাজ চলছে। খুব দ্রুত থানায় অভিযোগ দায়ের করা হবে। আমাদের দাবি, অবিলম্বে এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

নিহত মাওলানা রেজাউল করিম শ্রীবর্দী উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের চাউলিয়া এলাকার বাসিন্দা ও মাওলানা আব্দুল আজিজের ছেলে। তিনি শ্রীবরদী উপজেলার ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, বুধবার বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ মাঠে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার পাঠের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। এতে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা মঞ্চে অবস্থান নেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনুষ্ঠানে চেয়ার বসানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন কর্মী-সমর্থকের মধ্যে প্রথমে হট্টগোল শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এর মধ‍্যে মাওলানা রেজাউল করিমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাত ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। 

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..