বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি শামীম আহসানকে দলের সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর দলীয় সদস্য (রুকন) পদও স্থগিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বরগুনা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মহিবুল্লাহ হারুনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বরগুনা-২ (বামনা-পাথরঘাটা-বেতাগী) আসনে জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে শামীম আহসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। গত শনিবার তিনি পাথরঘাটা উপজেলার কাটাখালীতে জামায়াতের প্রার্থী সুলতান আহমেদের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন।
ওই জনসভায় তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি, ডাকসু নির্বাচনের পরে, যে ডাকসু মাদকের আড্ডা ছিল, যে ডাকসু বেশ্যাখানা ছিল, সেটা ইসলামী ছাত্রশিবির পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। তাই এই বাংলাদেশ থেকে সকল প্রকার অন্যায়, সকল প্রকার চাঁদাবাজ, সকল প্রকার দুর্নীতি উৎখাত করতে জামায়াতে ইসলামী সক্ষম।’ ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি এক জনসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে শামীম আহসান বেফাঁস মন্তব্য করেন। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীসহ দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তাঁর ওই বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং এটি দলটির নীতি ও আদর্শের পরিপন্থী। এ কারণে জেলা কর্মপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শামীম আহসানের সদস্য (রুকন) পদ স্থগিত করা হলো এবং সংগঠনের সব ধরনের দায়িত্ব থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামীর বরগুনা জেলার আমির মাওলানা মহিবুল্লাহ হারুন বলেন, শামীম আহসান যে ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন, তা জামায়াতে ইসলামীর নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ ছাড়া শামীম আহসানের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গতকাল দুপুরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন পাথরঘাটা উপজেলার বাদুরতলা গ্রামের আফরোজ নামের এক ব্যক্তি।
এ জাতীয় আরো খবর..