জবরদস্তি ও মব করে বৈধ প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিএনপি জোটের প্রার্থী মান্না বলেন, নির্বাচন কমিশনে চাপ প্রয়োগ করে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হচ্ছে। চাপ তৈরি করে, মব করে যদি নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করা যায়, তাহলে সেই নির্বাচন কোনো গুণমান পেতে পারে না। যে জন্য এতগুলো শহিদ জীবন দিলেন, এত বড় আন্দোলন হলো-সেগুলোর কোনো মূল্য থাকে না।
প্রথমে মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়ন স্থগিত করা হলেও পরবর্তীতে সংশোধিত কাগজপত্র জমা দেয়ার প্রেক্ষিতে তাকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেয় নির্বাচন কমিশন। শনিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা-১৮ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমি এর আগেও তিন-চারবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। কিন্তু এবারকার পথ এত কঠিন হবে, তা আগে কখনো দেখিনি। আজ নির্বাচন কমিশন আমাকে বৈধ ঘোষণা করেছে—এ জন্য আমি আন্তরিকভাবে তাদের ধন্যবাদ জানাই।
বগুড়ায় মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার চিত্র তুলে ধরে মান্না বলেন, সেইখানকার প্রার্থী বাছাইয়ে একটা মোবোক্রেসি হয়েছে। প্রার্থিতা যখন বাছাই করা হয়, একটা দলের প্রার্থীর পক্ষে বগুড়া জেলার ১২ জন আইনজীবী একসাথে এসেছেন। ঢাকার সুপ্রিম কোর্টসহ দু-তিনজন আইনজীবীকে নেয়া হয়েছে। সহকারী অটর্নি জেনারেল গেছেন। তারা ইচ্ছামত কথা বলেছেন। যত জোরে জোরে কথা বলা যায়, বলেছেন। আমার পক্ষে যারা যুক্তি দিচ্ছিলেন, তাদেরকে ধমক দিয়েছেন। তারা ডিসির পাশে বসে, মনে হচ্ছে যে, তারাই যেন একটা কর্তৃত্ব করছেন, নির্দেশ জারি করেছেন।
উল্লেখ্য, মাহমুদুর রহমান মান্না ঢাকা-১৮ আসনের পাশাপাশি বগুড়া-২ আসন থেকেও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে বগুড়া-২ আসনে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।
এ জাতীয় আরো খবর..