যে সংসদে ফিরিয়েছিলেন প্রাণ, সেখানেই ফিরলেন নিথর দেহে

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৫-১২-৩১, | ১৫:১৯:৫৬ |
শীতের কুয়াশাভেজা সকালে চারদিকে পিনপতন নীরবতা, শুধু মানুষের ডুকরে কেঁদে ওঠার শব্দ। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ আর জাতীয় সংসদ ভবনের আঙিনা আজ আর কোনো রাজনৈতিক স্লোগানে মুখর নয়; বরং এক গভীর শূন্যতায় আচ্ছন্ন। মানুষের মুখে শোক আর নিস্তব্ধতার ছায়া। 
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজা এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টা ৩ মিনিটের দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা তথা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজার ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আবদুল মালেক। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর জানাজায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।


সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানসহ সব রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।


যে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের জন্য বেগম খালেদা জিয়া রাজপথ কাঁপিয়েছিলেন, দীর্ঘ লড়াই শেষে ১৯৯১ সালে দেশের শাসনভার সংসদীয় পদ্ধতিতে ফিরিয়ে এনেছিলেন- আজ সেই সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজাতেই তিনি ফিরলেন, তবে একেবারেই অন্যভাবে। পতাকায় মোড়ানো এক হিমশীতল ফ্রিজার ভ্যানে, নিথর দেহে।

নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আপসহীন নেতৃত্ব দিয়ে যে গণতন্ত্রের ভিত্তি তিনি গড়েছিলেন, আজ সেই গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু সংসদ ভবনেই তার শেষ বিদায়ের সুর বাজছে।

১৯৯১ সালে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই সংসদ ভবনেই খালেদা জিয়া শপথ নিয়েছিলেন সংসদীয় গণতন্ত্রের পতাকা ওড়াতে। আজ কয়েক দশক পর, সেই পতাকাতলে শেষবারের মতো চিরবিদায় নিতে এলেন তিনি। সংসদ ভবনের পাথুরে দেয়ালগুলো যেন আজ সাক্ষী হয়ে আছে এক মহীয়সী নারীর উত্থান, সংগ্রাম এবং এই বিষাদময় প্রস্থানের।

সকাল থেকেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসেছে তাদের প্রিয় নেত্রীকে একনজর দেখতে। কেউ হেঁটে, কেউ মেট্রোরেলে, কেউবা শেষ সম্বলটুকু খরচ করে ঢাকায় এসেছেন শুধুমাত্র জানাজায় শরিক হতে। 

চট্টগ্রামের এক প্রবীণ কর্মীর ভাষ্য, এই সংসদ ভবন আমাদের নেত্রীর ত্যাগের ফসল। আজ তিনি এখানে ফিরলেন, কিন্তু আমাদের আর কিছু বলার সুযোগ দিলেন না।

সেনাবাহিনীর তৈরি হিউম্যান চেইনের ভেতর দিয়ে যখন তার মরদেহবাহী গাড়িটি ধীরে ধীরে এগোচ্ছিল, তখন দুই ধারের মানুষের চোখে ছিল বাঁধভাঙা পানি। জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিনটি মনে করিয়ে দিচ্ছিল, তিনি শুধু একটি দলের নেত্রী ছিলেন না, ছিলেন এই রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

সংসদ ভবন এলাকা শুধু ইট-পাথরের স্থাপত্য নয়, বরং এক শোকাতুর ইতিহাসের সাক্ষী। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক আর সাধারণ ছুটির আবহে স্তব্ধ পুরো বাংলাদেশ। যে সংসদীয় ব্যবস্থা তিনি পুনঃপ্রবর্তন করেছিলেন, সেই ব্যবস্থার ধারক হয়ে সংসদ ভবনের স্মৃতি মেখেই বিদায় নিচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনি অমর হয়ে থাকবেন সংসদীয় গণতন্ত্রের এক অনন্য কারিগর হিসেবে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..

Dhaka Forecast & Prayer Schedule

--°C
Loading...
💧 Humidity
--%
🌬 Wind
-- km/h

3-Day Forecast

Prayer Time

🕌 Fajr 🕌 Dhuhr
-- --
🕌 Asr 🕌 Maghrib
-- --
🕌 Isha
--
Loading countdown…
দেশ ও মুদ্রা ১ ইউনিট = টাকা পরিবর্তন
⏳ Currency data loading...