সর্বশেষ :
ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছে কর্মব্যস্ত মানুষ, দেরিতে ট্রেন ছাড়ার অভিযোগ ইরান যুদ্ধ: জরুরি ‘কোবরা’ বৈঠক ডেকেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব অর্থনীতি বড় হুমকির মুখে: আইইএ প্রধান বিশ্ববাজারে কমলো স্বর্ণের দাম, চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্নে হতাশা থেকে হুমকি দিচ্ছে তারা : ইরানের প্রেসিডেন্ট ট্যাঙ্কার যুদ্ধের দুঃস্বপ্ন, হরমুজে ফের ডুববে মার্কিন আধিপত্য? সংঘাতমুখী অবস্থান নিচ্ছে ইরানের নতুন নেতৃত্ব তিন সপ্তাহের হামলায় যা বোঝা গেল, আসলে কী চায় যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল? ইরান লন্ডনে হামলা চালাতে সক্ষম, ইসরায়েলের এমন দাবি নাকচ করল যুক্তরাজ্য হরমুজ প্রণালিতে ইরানের প্রতিরক্ষা ঘাঁটি গুঁড়িয়ে না দেওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে: মার্কিন অর্থমন্ত্রী

কে এই মার্টিন লুথার কিং?

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৫-১২-২৫, | ১৯:৪৬:৫৬ |
রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিশ্ববিখ্যাত কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক অধিকার নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের ঐতিহাসিক উক্তি ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’-এর প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের মাটিতে পা রেখে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, মার্টিন লুথার কিংয়ের যেমন মানুষের জন্য একটি স্বপ্ন ছিল, তেমনি বাংলাদেশের মানুষের জন্য তারও একটি পরিকল্পনা রয়েছে। তার এই বক্তব্যের পর জনমনে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে—কে ছিলেন মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র?

মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন ব্যাপটিস্ট ধর্মযাজক ও নাগরিক অধিকার আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা। ১৯২৯ সালের ১৫ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় এক পাদরি পরিবারে তার জন্ম। যুক্তরাষ্ট্রে যখন বর্ণবৈষম্য চরম পর্যায়ে পৌঁছায় এবং কৃষ্ণাঙ্গদের ওপর দমন-পীড়ন চলছিল, তখন অধিকারহীন মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন তিনি।

১৯৬৩ সালের ২৮ আগস্ট ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত এক বিশাল সমাবেশে তিনি তার ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। সেই ভাষণের মূলমন্ত্র ছিল—‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’। ভাষণে তিনি বলেন, তার একটি স্বপ্ন আছে, একদিন এই জাতি জেগে উঠবে এবং মানুষের সমঅধিকার নিশ্চিত করবে। তিনি আরও বলেন, তার চার সন্তান এমন এক দেশে বাস করবে, যেখানে তাদের গায়ের রং দিয়ে নয়, বরং চরিত্রের গুণাবলি দিয়ে বিচার করা হবে। এই ভাষণ বিশ্বজুড়ে মুক্তিকামী মানুষের চেতনাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।

মহাত্মা গান্ধীর আদর্শে অনুপ্রাণিত মার্টিন লুথার কিং অহিংস আন্দোলনে বিশ্বাস করতেন। কোনো ধরনের সহিংসতা ছাড়াই তিনি কৃষ্ণাঙ্গদের ভোটাধিকার ও সামাজিক মর্যাদা আদায়ের আন্দোলন চালিয়ে যান। এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬৪ সালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। সে সময় তিনি ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ নোবেলজয়ী।

তবে তার জীবনাবসান ঘটে মর্মান্তিকভাবে। ১৯৬৮ সালের ৪ এপ্রিল মেমফিস শহরের একটি হোটেলের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আততায়ীর গুলিতে তিনি নিহত হন।

এদিকে মার্টিন লুথার কিংয়ের বিখ্যাত উক্তি ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’ উল্লেখ করে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘ভাই-বোনেরা, মার্টিন লুথার কিংয়ের নাম শুনেছেন না আপনারা? নাম শুনেছেন তো? মার্টিন লুথার কিং-এর একটি বিখ্যাত ডায়লগ আছে— ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’। আজ এই বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে আপনাদের সবার সামনে আমি বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে আপনাদের সামনে আমি বলতে চাই— ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি (দেশের মানুষের জন্য, দেশের জন্য আমার একটি পরিকল্পনা আছে)। আজ এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে, দেশের উন্নয়নের জন্য, দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘যদি সেই প্ল্যান, সেই কার্যক্রম, সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে হয়– প্রিয় ভাই-বোনেরা, এই জনসমুদ্রে যত মানুষ উপস্থিত আছেন এবং সারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পক্ষে যত মানুষ আছেন, প্রত্যেকটি মানুষের সহযোগিতা আমার লাগবে। প্রত্যেকটি মানুষের সহযোগিতা আমাদের লাগবে। আপনারা যদি আমাদের পাশে থাকেন, আপনারা যদি আমাদেরকে সহযোগিতা করেন, ইনশাআল্লাহ আমরা ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব।’

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..