সর্বশেষ :

শিশুর লালন-পালনে ইসলাম যে নির্দেশনা দিয়েছে

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৫-১১-১৩, | ০৭:২০:২৩ |

শিশুদের সঙ্গে দয়া, অনুগ্রহ, স্নেহ ও দায়িত্ববোধ পালনে ভারসাম্যপূর্ণ আচরণের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ইসলামে। মায়া-মমতা, আদর স্নেহের পাশাপাশি শিশুদের প্রতি সঠিক আচরণ করা ঈমানের অংশ হিসেবে বিবেচিত।

সন্তানের সুরক্ষা নিশ্চিত করুন

কোরআনের নির্দেশ স্পষ্ট—কোনো সন্তান যেন তার পিতা-মাতার ক্ষতির কারণ না হয়। (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৩৩)।

 

এই আয়াতের মাধ্যমে ইসলাম একদিকে যেমন পিতা-মাতার অধিকার নিশ্চিত করেছে, তেমনি ইঙ্গিত দিয়েছে পিতা-মাতাও যেন সন্তানের প্রতি কোনো ধরনের ক্ষতি বা অবহেলা না করে।

ইসলাম স্বীকার করে, অনেক সময় পিতা-মাতা অতিরিক্ত স্নেহে কিংবা অবহেলায় ভুল করতে পারেন। তাই কোরআন ও হাদিসে এই বিষয়ে পরিপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সন্তান আনন্দের উৎস এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা

কোরআন বলে, সন্তান একদিকে জীবনের আনন্দ ও আশীর্বাদ, অন্যদিকে অহংকার, উদ্বেগ ও পরীক্ষার কারণও হতে পারে। ইসলাম  শিক্ষা দিয়েছে, আল্লাহর দেওয়া এই নিয়ামতের প্রতি অতিরিক্ত গর্ব বা নির্ভরতা না দেখিয়ে আত্মিক সুখ ও বিনয়কে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

 

আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কই মূল। পিতা-মাতা বা সন্তান কেউই কিয়ামতের দিন অন্যের পাপ মোচন করতে পারবে না। প্রত্যেকেই নিজ কর্মের জন্য জবাবদিহি করবে।

শিশুর ধর্মীয় প্রকৃতি ও দায়িত্ব

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক শিশু ইসলামী ফিতরাতে জন্মগ্রহণ করে; পরে তার পিতা-মাতা তাকে ইহুদি, খ্রিস্টান বা মজুসি বানায়।’
এই হাদিস ইসলামের একটি গভীর শিক্ষার দিকে ঈঙ্গিত করে। আর তাহলো শিশুর প্রকৃতি পবিত্র। তার এই পবিত্র প্রকৃতির বিকাশ নির্ভর করে পিতা-মাতার দিকনির্দেশনা ও পরিবেশের ওপর।

ইসলামে শিশুর মৌলিক অধিকার

ইসলাম শিশুদের জন্য কয়েকটি অবিচ্ছেদ্য অধিকার নির্ধারণ করেছে।

  • প্রথমত : জীবনের অধিকার। একটি শিশুর জীবন সংরক্ষণ করা ইসলামের অন্যতম প্রধান নির্দেশনা।
  • দ্বিতীয়ত : বৈধ বংশপরিচয়ের অধিকার। প্রত্যেক শিশুর একজন পিতা থাকবে, এবং একাধিক পিতার দাবি করা যাবে না।
  • তৃতীয়ত : লালন-পালন, শিক্ষা ও সামাজিক যত্নের অধিকার। যা ইসলাম অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেছে।

শিশুর যত্ন উত্তম সাদকা

শিশুদের যত্ন নেওয়া ইসলামে মহৎ কাজ হিসেবে গণ্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) শিশুদের প্রতি ছিলেন অগাধ মমতাপূর্ণ এবং বলেছেন, মুসলিম সমাজকে অন্যান্য জাতির মধ্যে দয়া ও স্নেহের জন্য পরিচিত হতে হবে।

শিশুর আধ্যাত্মিক বিকাশ, শিক্ষা ও সার্বিক কল্যাণে মনোযোগ দেওয়াকে ইসলাম উচ্চ মর্যাদার সাদকা হিসেবে গণ্য করে। জন্মের সপ্তম দিনে শিশুর নাম রাখা, মাথা মুন্ডন করা এবং পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজনীয় নিয়মগুলো পালনের নির্দেশও রাসুলুল্লাহ (সা.) দিয়েছেন।

সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব

শিশুর প্রতি দায়িত্ব শুধু পিতা-মাতার নয়, এটি একটি ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্বও। ইসলাম বলে, পিতা-মাতা জীবিত থাকুক বা না থাকুক, সন্তান যেন সর্বোচ্চ যত্ন পায় তা নিশ্চিত করা সমাজের কর্তব্য।

যদি নিকটাত্মীয় কেউ দায়িত্ব নিতে সক্ষম না হয়, তাহলে ওই শিশুর দেখভাল হবে পুরো মুসলিম সমাজের যৌথ দায়িত্ব এমনকি রাষ্ট্রের প্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ মিলে শিশুর দায়িত্ব পালন করবে।

ইসলাম শিশুর অধিকার পালনকে শুধু মানবিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করেনি, বরং একে একটি ইবাদত হিসেবে গণ্য করেছে। শিশুর লালন-পালন, শিক্ষা, নৈতিক দীক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইসলামের নির্দেশিত সামাজিক দায়িত্ব।

শিশুরা সমাজের ভবিষ্যৎ; তাই তাদের প্রতি দয়া, ভালোবাসা ও দায়িত্বশীল আচরণ ইসলামী সভ্যতার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এই শিক্ষা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, একটি শিশুর হাসি সমাজের প্রকৃত মানবিকতার প্রতিফলন।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..

Dhaka Forecast & Prayer Schedule

--°C
Loading...
💧 Humidity
--%
🌬 Wind
-- km/h

3-Day Forecast

Prayer Time

🕌 Fajr 🕌 Dhuhr
-- --
🕌 Asr 🕌 Maghrib
-- --
🕌 Isha
--
Loading countdown…
দেশ ও মুদ্রা ১ ইউনিট = টাকা পরিবর্তন
⏳ Currency data loading...