✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১১-০৬, | ১৬:৫৪:২৭ |গত এক দশকে পাকিস্তানের মোট বৈদেশিক ঋণ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ১৩ হাজার ৫১০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্বব্যাংকের ‘ইন্টারন্যাশনাল ডেট রিপোর্ট ২০২৬’-এ এই তথ্য উঠে এসেছে। ২০১৫ সালে দেশটির এই ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৮৬৭ কোটি ডলার।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের বর্তমান ঋণের মধ্যে সরকারি ও সরকারের নিশ্চয়তা দেওয়া ঋণ রয়েছে ১০ হাজার ৭০৭ কোটি ডলার। এ ছাড়া বেসরকারি খাতে সরকারের গ্যারান্টি ছাড়া ঋণ ১ হাজার ৭৫৮ কোটি ডলার এবং স্বল্পমেয়াদি ঋণ ১ হাজার ৪৫ কোটি ডলার।
সরকারি ঋণের মধ্যে বহুপক্ষীয় ঋণদাতাদের কাছে ৫ হাজার ৬৮৩ কোটি ডলার, দ্বিপক্ষীয় ঋণদাতাদের কাছে ৪ হাজার ২৪৩ কোটি ডলার এবং বেসরকারি ঋণদাতাদের কাছে ৭৮০ কোটি ডলার বকেয়া রয়েছে। পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় একক পাওনাদার হলো চীন, যাদের কাছে দেশটির বকেয়ার পরিমাণ ২ হাজার ২৪০ কোটি ডলার। এরপরেই রয়েছে বিশ্বব্যাংক (১ হাজার ৯২০ কোটি ডলার) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বা এডিবি (১ হাজার ৬৮৩ কোটি ডলার)।
সরকারি ঋণদাতাদের কাছ থেকে নেওয়া এই ঋণের গড় মেয়াদ ১৬ বছর। এর মধ্যে চার বছর গ্রেস পিরিয়ড বা রেয়াতকাল রয়েছে এবং গড় সুদের হার ৩.৬ শতাংশ। অন্যদিকে, বেসরকারি ঋণের ক্ষেত্রে গড় সুদের হার ৮.৬ শতাংশ, যা পরিশোধের মেয়াদ তিন বছর এবং রেয়াতকাল এক বছর। ২০২৫ সালে চীন পাকিস্তানের ২০০ কোটি ডলার ঋণের মেয়াদ বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দেশটির দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ২৩ কোটি ডলারের নতুন অর্থ ছাড় করে।
শুধু পাকিস্তান নয়, বিশ্বব্যাপী নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর (এলএমআইসি) ঋণও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এসব দেশের বৈদেশিক ঋণ ৫.৫ শতাংশ বেড়ে ৯.৪ ট্রিলিয়ন (৯ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি) ডলারে পৌঁছেছে, যা একটি রেকর্ড। বন্ড ইস্যু বৃদ্ধি, মার্কিন ডলারের মান কমে যাওয়া এবং বিনিয়োগকারীদের ঋণ দেওয়ার আগ্রহ বাড়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে ঋণ পরিশোধের ব্যয়ও টানা পঞ্চম বছরের মতো বেড়েছে, যা বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।