✕


জনবল সংকটে মাদারীপুর হাসপাতাল, চিকিৎসক নেই ৩৭ পদে

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-১১-০৬, | ১৬:৫০:৩৯ |

মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে জনবল সংকট চরমে পৌঁছেছে। ২৫০ শয্যার কার্যক্রম চললেও হাসপাতালটি পরিচালিত হচ্ছে ১০০ শয্যার জনবল দিয়ে। ১৯৭টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৩৮ জন। শূন্য রয়েছে ৫৯টি পদ। এর মধ্যে চিকিৎসকের পদই খালি ৩৭টি। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিশু রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।

সম্প্রতি হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ৪০ শয্যার বিপরীতে ভর্তি রয়েছে ১৩৩ শিশু। তাদের মধ্যে ৪০ জন হাম আক্রান্ত। শয্যা না পেয়ে একই বিছানায় দুই থেকে তিন শিশুকে থাকতে হচ্ছে। অনেককে থাকতে হচ্ছে ওয়ার্ডের মেঝেতে। শিশুদের সঙ্গে থাকা মায়েদেরও পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে বিপুলসংখ্যক শিশু। রোগীর সংখ্যা বাড়লেও শিশু ওয়ার্ডের শয্যা বাড়েনি। ফলে সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও জনবল দিয়ে অতিরিক্ত রোগীর চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের ১৯৭টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত ১৩৮ জন। শূন্য রয়েছে ৫৯টি পদ। প্রথম শ্রেণির ৫৬টি পদের মধ্যে ৩৭টি শূন্য। দ্বিতীয় শ্রেণির ৬৮টি পদের মধ্যে একটি, তৃতীয় শ্রেণির ২৮টির মধ্যে পাঁচটি এবং চতুর্থ শ্রেণির ৪৫টির মধ্যে ১৬টি পদ খালি রয়েছে।

সদর উপজেলার পাঁচখোলা গ্রামের কামাল হোসেনের চার বছর বয়সী ছেলে জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি। তিনি বলেন, একই বিছানায় তিন শিশুকে থাকতে হচ্ছে। এতে শিশুদের পাশাপাশি স্বজনদেরও নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

কালকিনির খাসেরহাট গ্রামের শিউলি বেগমের তিন মাস বয়সী ছেলে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। তিনি বলেন, হাসপাতালে ভর্তি করার পর দেখেন, একই বিছানায় তিন শিশুকে রাখা হয়েছে। ছোট শিশুকে নিয়ে এভাবে থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অখিল সরকার বলেন, হাসপাতালে জনবল সংকট থাকলেও তাঁরা সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। প্রায় প্রতিদিনই নির্ধারিত শয্যার চেয়ে বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

মাদারীপুরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খলিলুজ্জামান বলেন, ১০০ শয্যার জনবল দিয়ে ২৫০ শয্যার কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং ২৫০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করা গেলে চিকিৎসাসেবার মান আরও বাড়বে।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..