✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১১-০৬, | ১৫:০৬:৪১ |কাতারের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন পারমাণবিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। তবে তেহরানের দেওয়া বিশেষ সাতটি শর্ত ওয়াশিংটন আগে পূরণ করলেই কেবল এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইতিমধ্যেই প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করার জন্য দেওয়া হয়েছে, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি।
এদিকে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পুনরায় পূর্ণমাত্রায় শুরু হতে পারে—এমন মারাত্মক আশঙ্কার মাঝেই যুদ্ধবিরতি ও শান্তি বজায় রাখতে মধ্যস্থতাকারীরা দৌড়ঝাঁপ ও তীব্র কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত মঙ্গলবার এক বক্তব্যে ভোটের পর সামরিক অভিযান আবার শুরু করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। অন্যদিকে যুদ্ধ আবার শুরু হলে আরও বড় পরিসরে ভয়াবহ প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে ইরান।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাশিয়া সফরকালে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহসেন রেজাই তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, কূটনীতির প্রশ্নে আমরা আমেরিকানদের কাছে সাতটি শর্ত উত্থাপন করেছি। যতক্ষণ না তারা আমাদের এই সাতটি শর্ত বাস্তবায়ন করছে, ততক্ষণ আমরা হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করব না এবং কোনো আলোচনায়ও বসব না।
ইরানের উত্থাপিত এই শর্তগুলোর মধ্যে প্রধান বিষয় হিসেবে রয়েছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া, বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা বা ফ্রিজ করা ইরানি সম্পত্তি মুক্ত করা এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ক্ষতিপূরণ প্রদান করা। তবে অন্যদিকে ওয়াশিংটন প্রথম থেকেই দাবি করে আসছে যে, প্রাথমিক যেকোনো আলোচনার অংশ হিসেবে পারমাণবিক ইস্যুটিকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। যার জবাবে ইরানও সরাসরি ইসরায়েল এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করে। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে; লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের তুমুল সংঘাত শুরু হয় এবং সম্প্রতি এই সংঘাত ইয়েমেন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র, বিমানবন্দর এবং অন্যান্য স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আসছে।
সূত্র: রয়টার্স