✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-১১-০২, | ১২:১৫:১৬ |শীতকালে দিল্লির বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে চারমাসের জন্য নানা কড়াকড়ি আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ। নতুন নিয়ম চালুর প্রথমদিনেই রবিবার কর্তৃপক্ষ মোট ৬৮ লাখ ৪০ হাজার রুপি জরিমানা এবং পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ ধার্য করেছে।
এই অভিযানে বাইরে থেকে রাজধানীতে ঢুকতে চাওয়া অন্তত ১৫ হাজার গাড়ি পরীক্ষা করা হয়েছে, এরমধ্যে ১ হাজার ৫৩৯টি গাড়িকে সীমানা পারাপারের পয়েন্ট থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পলিউশন আন্ডার কন্ট্রোল সার্টিফিকেট (পিইউসি) না থাকায় ৫৬৬টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
কড়াকড়ি আরোপের প্রথম দিনে রবিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত পাওয়া সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পিইউসি না থাকায় ৫৬ লাখ ৬০ হাজার রুপি জরিমানা, দিল্লির সীমানায় প্রবেশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের জন্য ২ লাখ রুপি জরিমানা এবং নির্মাণ ও ধ্বংস সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের জন্য ৯ লাখ ৮০ হাজার রুপি পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছে।
দিল্লির বাইরে নিবন্ধিত যেসব যানবাহন ভারত স্টেজ-৬ (বিএস-৬) নির্গমন মানদণ্ড পূরণ করে না, নতুন নিয়মে সেগুলো দিল্লিতে প্রবেশ করতে পারবে না।
এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের অংশ হিসেবে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ এবং পরিবহন বিভাগ ১৪ হাজার ৯৩০টি যানবাহন পরীক্ষা করেছে এবং এর মধ্যে প্রায় ১০.৩১ শতাংশ গাড়িকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় ১২৭টি চালান ইস্যু করা হয়েছে এবং ৬২টি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি দিল্লি ট্রাফিক পুলিশের এনফোর্সমেন্ট টিম ২ লাখ রুপি জরিমানা করেছে।
ফিরিয়ে দেওয়া যানবাহনগুলোর মধ্যে ১৪০টি হালকা মোটর যান, ৫৪টি হালকা বাণিজ্যিক যান, ৯৫টি ভারী পণ্যবাহী যান এবং ৩৪টি বাস ছিল।
এছাড়া পরীক্ষা করা ১ হাজার ৪২৩টি দুই চাকার যান, তিন চাকার যান এবং অন্যান্য যানবাহনের মধ্যে ৭৮৯টি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ৩৮টি জব্দ করা হয়েছে।
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট গন্তব্যহীন আরও ৭ হাজার ২৭৯টি যানবাহন পরীক্ষা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩১৪টি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কোনো চালান ইস্যু করা হয়নি।
সিএনজিচালিত যানবাহন, বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং জরুরি পরিষেবার সাথে জড়িত গাড়িগুলোকে এই বিধিনিষেধ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এমন মোট ৭৪০টি যানবাহন যাচাই করে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
বৈধ পিইউসি ছাড়া চলাচলকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে একটি আলাদা অভিযানে কর্তৃপক্ষ ৫৬৬টি চালান ইস্যু করেছে এবং ৫৬ লাখ ৬০ হাজার রুপি জরিমানা করেছে।
দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ ৪৯৩টি চালান ইস্যু করে ৪৯ লাখ ৩০ হাজার রুপি এবং পরিবহন বিভাগ ৭৩টি চালান ইস্যু করে ৭ লাখ ৩০ হাজার রুপি জরিমানা করেছে। নির্মাণ এবং ধ্বংসের স্থানগুলোতে ধূলিদূষণ বিরোধী অভিযানের ফলেও ৯ লাখ ৮০ হাজার লাখ রুপি পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩০০টি নির্মাণ সাইট পরিদর্শন করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩২টি সাইটে ধূলি নিয়ন্ত্রণ নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৫০০ বর্গমিটারের বেশি প্লট আয়তনের ৯১টি বড় সাইট ছিল, যার মধ্যে ১৬টিতে নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বড় সাইটগুলোর মধ্যে দুটি বন্ধের নির্দেশ এবং চারটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে, পাশাপাশি ৪ লাখ রুপি পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছে।
৫০০ বর্গমিটারের কম প্লট আয়তনের ২০৯টি ছোট সাইটের মধ্যে ১৭টিতে নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ মিলেছে। কর্তৃপক্ষ ১৫টি বন্ধের নির্দেশ এবং ১৫টি কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে, সঙ্গে ৫ লাখ ৮০ হাজার রুপি পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ ধার্য করেছে।
সব মিলিয়ে, পরীক্ষাকৃত ৩০০টি সাইটের মধ্যে ১৭টি বন্ধের নির্দেশ এবং ১৯টি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে এবং ৯ লাখ ৮০ হাজার রুপি পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছে। অব্যাহতি প্রাপ্ত অবকাঠামো প্রকল্পগুলোতে ধূলি নিয়ন্ত্রণ নীতি লঙ্ঘনের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
দিল্লির পরিবেশ মন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসা এক্স-এ এক পোস্টে লিখেছেন যে, এনফোর্সমেন্ট টিমগুলো যানবাহনের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা, পলিউশন আন্ডার কন্ট্রোল সার্টিফিকেট নীতি এবং নির্মাণক্ষেত্রের ধূলি সংক্রান্ত নিয়মগুলো মেনে চলা হচ্ছে কিনা তা পরীক্ষা করছে। তিনি বলেন, ‘আজ (রোববার) ১৪ হাজার ৯৩০টি যানবাহন পরীক্ষা করা হয়েছে, ৫৬৬টি পিইউসি চালান দেওয়া হয়েছে এবং ৩০০টি সাইট পরিদর্শন করা হয়েছে। আপনার পিইউসি বৈধ রাখুন, প্রবেশের নিয়ম এবং ধূলি সংক্রান্ত বিধি মেনে চলুন। পরিচ্ছন্ন বাতাসের এই লড়াইয়ে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।’
বায়ু দূষণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য উইন্টার অ্যাকশন প্ল্যানের অধীনে এই বিধিনিষেধগুলো ১ নভেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিভিন্ন মেয়াদে কার্যকর থাকবে।
দিল্লির বাইরে নিবন্ধিত প্রাক-বিএস-৬ যানবাহনগুলো আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত জাতীয় রাজধানীতে প্রবেশ করতে পারবে না। নির্দিষ্ট কিছু প্রয়োজনীয় সরকারি অবকাঠামো প্রকল্প ছাড়া ধূলি উৎপাদনকারী সমস্ত ধ্বংসকাজ এবং বাইরের দেওয়ানি নির্মাণ কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ১০ ডিসেম্বর থেকে ২০ জানুয়ারির মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু অব্যাহতি ছাড়া নির্মাণ ও ধ্বংসকাজের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা থাকবে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুরো দিল্লি জুড়ে অনুমোদিত পার্কিং লটগুলোতে পার্কিং ফি দ্বিগুণ করা হয়েছে।
১ নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলোতে সশরীরে উপস্থিতি ৫০ শতাংশে সীমিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বাকি কর্মচারীরা বাসা থেকে কাজ করবেন। তবে জরুরি ও অতীব প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলোকে এই নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি