✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-০৫, | ১৪:৩১:৫৩ |পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় কিউবায় অন্ত্রের রোগ ও ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) হাভানায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ভ্রমণকারী ও বাসিন্দাদের জন্য স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে। অথচ একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ আটকে রেখেছে।
সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, কিউবায় ডায়রিয়াজনিত রোগের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে, যা পানি ও জ্বালানি অবকাঠামোর ক্রমাগত অবনতির সাথে সম্পর্কিত। এই অবনতি পানি সরবরাহ এবং খাদ্য সংরক্ষণ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে।
ট্রাম্প প্রশাসন এই কমিউনিস্ট শাসিত দ্বীপটিতে জ্বালানি অবরোধ আরোপ করার নয় মাস পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই সতর্কতা এল। এই অবরোধের ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ব্যাপকভাবে বেড়েছে এবং বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে খাবার সংরক্ষণ ও স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার বিষয়টি জটিল হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘ-নিযুক্ত মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের এই জ্বালানি অবরোধকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। আগস্ট মাসে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের একটি দল সতর্ক করেছিল, যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা কঠোর করার ফলে দ্বীপটিতে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, মানবিক পরিণতি ইতোমধ্যেই একটি পূর্ণাঙ্গ সংকটের রূপ নিচ্ছে, যা স্বাস্থ্য, জীবন, খাদ্য ও উন্নয়নের অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, দ্বীপটির সরকার পরিবর্তনে বাধ্য করার জন্য এই নিষেধাজ্ঞা জরুরি। ১৯৫৯ সালে ফিদেল কাস্ত্রোর বিপ্লবের পর থেকেই এটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য। ট্রাম্প কিউবাকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
কিউবার বাসিন্দারা বেশ কয়েক মাস ধরেই ব্যাপক অসুস্থতার অভিযোগ করে আসছেন; এসব অসুস্থতার ফলে কয়েক দিন ধরে ডায়রিয়া, জ্বর ও শরীর ব্যথা থাকে এবং অনেকে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। ক্যারিবীয় অঞ্চলের ভ্যাপসা গরমের সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা ফ্যান ছাড়া ঘুমানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে রেফ্রিজারেশন বা হিমায়ন ব্যবস্থা ছাড়া খাবার সংরক্ষণ করা কঠিন। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি অবরোধের কারণে দিনের পর দিন বিদ্যুৎহীন থাকাটা এখন সেখানে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
শুক্রবার জারি করা মার্কিন স্বাস্থ্য সতর্কবার্তায় কিউবার ভ্রমণকারী ও বাসিন্দাদের সংরক্ষিত পচনশীল খাবারের পাশাপাশি এবং দীর্ঘ সময় ধরে তাপমাত্রায় রাখা খাবার পরিহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স।