✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-০৫, | ১১:৪৮:০৩ |লুয়ান-দ্রে প্রিটোরিয়াসের ঝড়ো সেঞ্চুরি ও কনর এস্টারহুইজেনের বিস্ফোরক ইনিংসে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২২৮ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। রান তাড়ায় দারুণ লড়াই করল নামিবিয়া। তবে শেষ পর্যন্ত আর পেরে উঠেনি তারা।
অল্পের জন্য হারের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো তাদের। ২০ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ২১৭ রানে থেমে যায় স্বাগতিকরা। ফলে ২২৯ রানের লক্ষ্য থেকে ১১ রান দূরে থাকতেই শেষ হয় তাদের ইনিংস। ফলে সিরিজের ফাইনাল খেলবে জিম্বাবুয়ে ও দক্ষিণ আফ্রিকা। নামিবিয়া ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ওপেনার লুয়ান-দ্রে প্রিটোরিয়াস ও কনর এস্টারহুইজেনের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে দুজন মিলে প্রথম উইকেটে ১৫৬ রান যোগ করেন মাত্র ৭০ বলে। ইনিংসের শুরু থেকেই নামিবিয়ার বোলারদের ওপর চড়াও হন তারা। এস্টারহুইজেন ৪০ বলে ৮৮ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৮টি ছক্কা। স্ট্রাইক রেট ছিল ২২০। অন্য প্রান্তে প্রিটোরিয়াস ছিলেন আরও বিধ্বংসী। ৫৩ বলে ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। তার ব্যাট থেকে আসে ৫টি চার ও ৮টি ছক্কা; স্ট্রাইক রেট ১৯০.৫৬।
১১.৩ ওভারে ১৫৬ রানে এস্টারহুইজেনকে ফেরান জান বাল্ট। এরপর ১৩.১ ওভারে ডেওয়াল্ড ব্রেভিস মাত্র ৩ রান করে বাল্টের দ্বিতীয় শিকার হন। তবে ততক্ষণে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোরবোর্ডে ১৭২ রান উঠে গেছে।
রুবিন হারম্যান এরপর ২১ বলে ২৬ রান করে ইনিংসকে এগিয়ে নেন। তাকে ১৮.৩ ওভারে রুবেন ট্রাম্পেলম্যান ফেরালেও দক্ষিণ আফ্রিকা তখন ২১৩ রানে পৌঁছে গেছে। শেষদিকে এথান বশ ও জর্ডান হারম্যান অপরাজিত থেকে দলকে ২২৮ রানে নিয়ে যান। শেষ ওভারে ১ রান করে প্রিটোরিয়াস আউট হলেও তার সেঞ্চুরির সুবাদে দক্ষিণ আফ্রিকা বড় সংগ্রহ নিশ্চিত করে।
নামিবিয়ার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন জান বাল্ট। ৪ ওভারে ৩১ রান দিয়ে তিনি নেন ২ উইকেট। জেরহার্ড এরাসমাস ৩ ওভারে ২৮ রান দিয়ে একটি এবং রুবেন ট্রাম্পেলম্যান ৪ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিংয়ের সামনে নামিবিয়ার বোলিং আক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।
২২৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নামিবিয়াও শুরু থেকেই পাল্টা আক্রমণ করে। লরেন স্টেইনক্যাম্প ও জান ফ্রাইলিঙ্ক প্রথম উইকেটে ১১৯ রান যোগ করেন। মাত্র ৬.১ ওভারে নামিবিয়া ৬৭ রান তুলে ফেলে এবং পাওয়ারপ্লে শেষ করে কোনো উইকেট না হারিয়ে।
ফ্রাইলিঙ্ক ছিলেন বিশেষভাবে আগ্রাসী। মাত্র ২৮ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৫টি ছক্কা। শেষ পর্যন্ত ৩৬ বলে ৭২ রান করে ১০.৫ ওভারে আন্দিলে সিমেলানের বলে আউট হন তিনি। তার বিদায়ের সময় নামিবিয়ার স্কোর ১১৯।
অন্য প্রান্তে স্টেইনক্যাম্পও সমানতালে রান তুলছিলেন। ৩৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করা এই ব্যাটার ৪৪ বলে ৬১ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ৩টি ছক্কা। ১৫.৬ ওভারে ১৬৭ রানে পৌঁছানোর পর তিনি আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন।
ফ্রাইলিঙ্কের বিদায়ের পর অধিনায়ক জেরহার্ড এরাসমাস দলকে জয়ের দিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ২৬ বলে অপরাজিত ৩০ রান করেন তিনি। মাঝে জেজে স্মিট ৪ বলে ৯ রান করে ফেরেন। এরপর রুবেন ট্রাম্পেলম্যান ১০ বলে ২১ রান করে শেষদিকে নামিবিয়ার আশা আরও বাড়িয়ে দেন। তার ইনিংসে ছিল একটি চার ও একটি ছক্কা।
১৮.৪ ওভারে নামিবিয়া ২০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করে। শেষদিকে প্রয়োজন ছিল দ্রুত রান তোলার। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা চাপ ধরে রাখেন। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ২১৭ রান করে নামিবিয়া। ফলে ১১ রানের ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা।
দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের মধ্যে নকোবানি মোকোয়েনা ৪ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। আন্দিলে সিমেলান ২ ওভারে ২৮ রান দিয়ে একটি উইকেট পান। নকোয়ামিজি পিটার ৩ ওভারে ২৬ রান দিয়ে তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন। কুয়েনা মাফাকা ৪ ওভারে ৩৮ রান দেন এবং কোনো উইকেট পাননি। এথান বশ ৪ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন।