✕
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-০২, | ০১:৩৯:০৩ |ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রে মোতায়েন থাকা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর হাজার হাজার নাবিক ও মেরিন সেনাকে স্বাগত জানাতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে থাইল্যান্ডের রিসোর্ট শহর পাতায়া। টানা ২৭০ দিনেরও বেশি সময় ধরে টানা সমুদ্রে অবস্থান করার পর মার্কিন এই পরমাণু শক্তিচালিত রণতরীটির সদস্যরা এবার কিছুটা বিশ্রামের সুযোগ পাচ্ছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপি-কে প্রাদেশিক গভর্নর নারিত নিরামাইওং জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রায় ৬০০ জন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি মিশন শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার পথে পারমাণবিক শক্তিচালিত এই বিশাল বিমানবাহী রণতরীটি সপ্তাহান্তে সিঙ্গাপুর অতিক্রম করে থাইল্যান্ডের উপকূলের দিকে এগিয়ে আসে। গত ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে দক্ষিণ চীন সাগরে ডিউটির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। পরবর্তীতে ছয় মাস আগে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ ইরান হামলার পটভূমিতে এটিকে তড়িঘড়ি করে মধ্যপ্রাচ্যে পুনঃপ্রেরণ করা হয়।
দীর্ঘদিন সমুদ্রে অবস্থান করার ফলে রণতরীটির ভেতরে নিম্নমানের জীবনযাত্রার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। খাবার সংকট, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা এবং একাধিক আত্মহত্যার চেষ্টার মতো সংবেদনশীল খবর মার্কিন সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই যুদ্ধনীতির তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
পাতায়ার মেয়র পোরামাসে নগমপিচেস জানিয়েছেন, বুধবার মধ্যরাতের পর (জিএমটি মঙ্গলবার বিকেল ৫টা) রণতরীটি থাইল্যান্ডের লায়েম ছাবাং বন্দরে নোঙর করবে। মার্কিন সেনাসদস্যদের পর্যায়ক্রমে পাতায়া শহরে যাতায়াতের জন্য প্রায় ৪০টি বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী রবিবার রণতরীটি স্বদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগ পর্যন্ত এই যাতায়াত সুবিধা বহাল থাকবে।
তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার পর মেয়র পোরামাসে জানিয়েছেন, আগত মার্কিন সামরিক কর্মীদের কিছু নির্দিষ্ট বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড থেকে কঠোরভাবে বিরত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্যারাট্রেকিং এবং ক্যানাবিস বা গাঁজা সেবন। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে থাইল্যান্ডে চিকিৎসাসংক্রান্ত গাঁজা বৈধ করা হয় এবং বর্তমানে থাই শহরগুলোতে ক্যানাবিস ডিসপেনসারি খুবই সাধারণ চিত্র।
অতীতের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, সিক্সটিজের দশকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় মার্কিন সেনাদের বিশ্রাম ও বিনোদনের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার মাধ্যমে সাবেক শান্ত মাছ ধরার গ্রাম পাতায়া আজকের এই রূপ ধারণ করে। বর্তমানে এই পর্যটন কেন্দ্রটি তার চোখধাঁধানো রাতের জীবন ও সৈকতের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত, যদিও যৌন পর্যটনের কারণে এটি প্রায়শই সমালোচনার মুখে পড়ে।
সম্প্রতি পাতায়াতে যৌনকর্মীদের ওপর অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেয়র পোরামাসে। তবে এটি মার্কিন সেনাদের আগমনকে কেন্দ্র করে করা হয়েছে এমন দাবি তিনি অস্বীকার করেছেন।
একই সাথে স্থানীয় ব্যবসায়ী যেন মার্কিন সেনাদের থেকে অতিরিক্ত মূল্য আদায় না করে সে বিষয়ে সতর্ক করেছে থাই সরকারি কর্মকর্তারা। পুলিশ প্রধান অনেক স্রেথংইউ জানান, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনো মার্কিন সেনা যদি থাই আইন ভঙ্গ করে তবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিচার করা হবে।
ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট পর্যটন মন্দার মুখে পড়া স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই মার্কিন সেনাদের স্বাগতম জানাতে উৎসুক হয়ে আছেন। সৈকতের কাছের একটি স্থানীয় বারে মার্কিন সেনাদের স্বাগত জানিয়ে ব্যানারও টাঙানো হয়েছে।
তবে সাধারণ ব্যবসায়ীদের মাঝে কিছুটা সংশয়ও রয়েছে। বুয়ালুয়াং পোনোক নামের একজন বার কর্মী বলেন, অতীতে তিনি মার্কিন সেনাদের দেখেছেন ঠিকই, তবে এবার আসা সেনাদল থেকে খুব বেশি ব্যবসা হবে বলে তিনি মনে করছেন না। ৫ হাজার সেনার আগমনের কথা বলা হলেও আসলে কতজন তাদের বার পর্যন্ত আসবেন তা নিয়ে তিনি দ্বিধান্বিত।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান