আল্লাহর দরজা সবার জন্য সব সময় খোলা

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৯-০২, | ০১:২৮:৩২ |

গুনাহ করা মানুষের স্বভাব। মাফ করা আল্লাহর বৈশিষ্ট্য। মানুষ গুনাহ করবে, অপরাধ করবে-এটাই স্বাভাবিক। মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দার ভুলত্রুটি মাফ করবেন-এটা তার কাছে প্রিয়। তবে শর্ত হচ্ছে, গুনাহ যখনই হয়ে গেল তখনই তওবা করতে হবে।

হৃদয়ের গভীর থেকে ক্ষমা চাইতে হবে। নিজ কর্মের জন্য ও অপকর্মের জন্য লজ্জিত হতে হবে। ভবিষ্যতে কখনো সেই অপরাধ করবে না বলে দৃঢ়ভাবে নিয়ত করতে হবে। তাহলেই কেবল তওবা কবুল হবে। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেন, ‘তোমাদের কেউ যদি অজ্ঞতাবশত কোনো খারাপ কাজ করে বসে, তারপর তওবা করে ও নিজেকে সংশোধন করে নেয়, তাহলে তিনি তাকে মাফ করে দেন এবং নরম নীতি অবলম্বন করেন, এটি তাঁর দয়া ও অনুগ্রহেরই প্রকাশ’ (সুরা: আনআম-৫৪)।

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, মানুষ যত অপরাধই করুক, যদি আল্লাহর কাছে খাঁটি অন্তরে ক্ষমা চায় আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। মানুষের ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় গুনাহ হয়ে যায়। হৃদয়ের গভীর থেকে যদি তওবা করে, আশা করা যায় মহান আল্লাহ তা ক্ষমা করে দেবেন। কারণ আল্লাহ হলেন সবচেয়ে দয়াবান। সর্বাধিক মেহেরবান। বান্দার প্রতি তিনি অসীম দয়ালু। সুতরাং বান্দা যখন ভুলে অপরাধ করে আবার তা স্বীকার করে নেয়, আল্লাহর কাছে লজ্জিত হয়, তখন তিনি তাকে ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। মাফ করতে পছন্দ করেন। বান্দাকে ক্ষমা করার জন্য আল্লাহর দুয়ার সব সময় উন্মুক্ত। চিরদিন খোলা।

আল্লাহ অপেক্ষায় থাকেন, তাঁর কোনো গুনাহগার বান্দা কখন তওবা করে ফিরে আসবে। গুনাহের কাজ চিরতরে ছেড়ে দেবে। চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে আবার মহান পরওয়ারদিগারের দরবারে হাজির হবে। তওবার পর গুনাহ মাফ করা হবে-এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনের আরেকটি আয়াতে এসেছে, ‘আর যারা মন্দ কাজ করে, তারপর তওবা করে নেয় এবং ইমান আনে, তবে নিশ্চয়ই তোমার পরওয়ারদিগার তওবার পর অবশ্য ক্ষমাকারী, করুণাময়’ (সুরা : আরাফ-১৫৩)।

এই আয়াত থেকেও তওবাকারীর ক্ষমা প্রাপ্তির বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। হাদিসের কিতাবগুলোতে অসংখ্য হাদিস উল্লেখ হয়েছে তওবাকারীর ফজিলত ও মর্যাদা বিষয়ে। স্বাভাবিকএক হাদিসে এসেছে, অপরাধ থেকে তওবাকারী ব্যক্তি ওই ব্যক্তির মতো যার কোনো গুনাহ নেই। আরেকটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, পৃথিবীর সব মানুষই গুনাহগার। আর গুনাহগারদের মধ্যে উত্তম ওই ব্যক্তি, যে তওবা করে।

মহান পরওয়ারদিগার প্রিয় বান্দাকে মাফ করবেন, তবে এর অর্থ এই নয়, বান্দা বারবার গুনাহ করতেই থাকবে। গুনাহের ওপর অটল থাকবে। জেনেশুনে বারবার একই অপরাধ করবে। বরং ইচ্ছাকৃতভাবে গুনাহ করলে সেই অপরাধ মাফ করা হয় না। এ বিষয়ে কোরআন মাজিদের অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘এ কথা জেনে রাখো, আল্লাহর কাছে তওবা কবুল হওয়ার অধিকার একমাত্র তারাই লাভ করে, যারা অজ্ঞতার কারণে কোনো খারাপ কাজ করে বসে এবং তারপর দ্রুত তওবা করে। এ ধরনের লোকদের প্রতি আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহের দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন। এবং আল্লাহ সব বিষয়ে খবর রাখেন, তিনি জ্ঞানী ও সর্বজ্ঞ’ (সুরা: নিসা-১৭)।

অর্থাৎ তওবা কবুল হবে না জেনেশুনে বারবার অপরাধ করলে। তাই আমাদের মধ্যে যারা গুনাহ করে ফেলেছি এবং জীবনে বহুবার অপরাধে জড়িয়ে পড়েছি, আর দেরি নয়। আসুন, আজই তওবা করি। ক্ষমা চাই। তবে গুনাহ করার পর হতাশ হওয়া যাবে না। নিরাশ হওয়া যাবে না। অপরাধ করার পর হতাশ হওয়া, নিরাশ হওয়া আরেকটি পৃথক অপরাধ।

পবিত্র কোরআনে সুরা জুমার ৫৩ নম্বর আয়াতে নিরাশ হতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। সন্তান যখন অপরাধ করার পর পিতা-মাতার কাছে ভুল স্বীকার করে, অনুতপ্ত হয়, তখন যেকোনো পিতা-মাতা তাকে মাফ করে দেন। পিতা-মাতার চেয়ে কোটি কোটি গুণ বেশি মেহেরবান দয়াময় আল্লাহ। তাই বান্দা শত অপরাধ করেও যখন ক্ষমা চায়, আল্লাহ মাফ করে দেন। এটা নিশ্চিত। আমরা কতবার তওবা করব-এ বিষয়ে প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘হে লোকেরা! তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো এবং গুনাহ মাফ চাও। কারণ আমি দিনে ১০০ বার তওবা করি’ (মুসলিম)। রসুল (সা.) নিষ্পাপ। তাঁর আগে পরের সব গুনাহ মাফ। তারপরও তিনি দিনে ১০০ বার তওবা করলে আমাদের আরও অনেক বেশি তওবা করা উচিত। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে বেশি বেশি তওবা করার তৌফিক দান করুন।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..