জার্মানিতে এলএনজির মজুদ নেমেছে ৫০ শতাংশে

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২৯, | ০১:৩১:১৯ |
জার্মানিতে শীত মৌসুম শুরুর আগে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) মজুদ নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।

দেশটির সংরক্ষণাগারগুলোতে বর্তমানে ধারণক্ষমতার মাত্র ৫০ শতাংশ গ্যাস রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর একই সময়ের তুলনায় এ পরিমাণ সর্বনিম্ন। ফলে শীত তীব্র হলে এলএনজি সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিরোধী দলের নেতারা। খবর আনাদোলু এজেন্সি।

জার্মানির জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফেডারেল নেটওয়ার্ক এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার দেশটির গ্যাস সংরক্ষণাগারগুলো প্রায় ৫০ শতাংশ পূর্ণ ছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোর গড়ের তুলনায় এটি প্রায় ২৬ শতাংশ কম। জার্মানির নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত ১ নভেম্বরের মধ্যে গ্যাস সংরক্ষণাগার ৮০ শতাংশ পূর্ণ করার কথা।

গ্যাসের এমন কম মজুদ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন দেশটির বিরোধী দল। বাম দলের জ্বালানি নীতিবিষয়ক মুখপাত্র ইয়র্গ সেজানে জার্মান সংবাদপত্র রাইনিশে পোস্টকে বলেন, ‘বর্তমান অনিশ্চিত বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ অর্ধেক রেখেই শীতের প্রকোপ কম বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে, এমন আশা করে বসে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ।’

গ্রিন পার্টির নেতা ও সাবেক জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মিশায়েল কেলনারও এলএনজি আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, ‘গত বছর বাল্টিক সাগর বরফে জমে যাওয়ায় একটি এলএনজি টার্মিনাল কয়েক সপ্তাহ বন্ধ ছিল। বরফ ভাঙার জন্য একটি জাহাজ পাঠানো হলেও সেটি বিকল হয়ে যায়। ফলে টার্মিনালটি কয়েক সপ্তাহ বন্ধ ছিল। এ ধরনের ঘটনা আবারো ঘটতে পারে।’

জার্মানির জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান ক্লাউস মুলারও বর্তমান পরিস্থিতিকে সন্তোষজনক নয় বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় এবার গ্যাসের মজুদ ৫০ শতাংশে পৌঁছতে ৫০ দিন বেশি সময় লেগেছে। বর্তমানে প্রায় ১২৩ দশমিক ৪ টেরাওয়াট-ঘণ্টা গ্যাস মজুদ রয়েছে।

সাধারণত গ্রীষ্মে দাম কম থাকায় ব্যবসায়ীরা তখন গ্যাস কিনে মজুদ করেন এবং শীতে চাহিদা বাড়লে তা বিক্রি করেন। তবে এবার তুলনামূলক বেশি দাম থাকায় মজুদ বাড়ানোর আগ্রহ কমেছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহনে বিঘ্নের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জার্মান কর্মকর্তারা বলেছেন, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর যে ধরনের গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছিল, বর্তমানে পরিস্থিতি তেমন হয়নি। যুদ্ধের আগে রাশিয়া জার্মানির প্রায় ৫৫ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করত। বর্তমানে রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নরওয়ে, বেলজিয়াম, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আমদানি করে সেই ঘাটতি অনেকটাই পূরণ করছে জার্মানি।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..