সকালে এক কাপ লিকার চা কেন হতে পারে ভালো অভ্যাস

  • নিউজ ডেস্ক

    প্রকাশ :- ২০২৬-০৮-২৯, | ০১:১৮:১৩ |

সকালে ঘুমের রেশ কাটাতে এক কাপ গরম চায়ের জুড়ি মেলা ভার। অনেকেরই দিনের শুরু হয় চা দিয়ে। তবে দুধ-চিনি দেওয়া চায়ের তুলনায় চিনি ও দুধ ছাড়া লিকার বা কালো চা তুলনামূলক হালকা পানীয়। পরিমিত পরিমাণে পান করলে এটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস

কালো চায়ে থাকা পলিফেনলজাতীয় যৌগ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। শরীরে অতিরিক্ত ফ্রি র‍্যাডিক্যালের কারণে কোষের যে ক্ষতি হতে পারে, তা মোকাবিলায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভূমিকা রাখে। তাই পরিমিত চা পান সামগ্রিক স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।

হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক

চায়ে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েডসহ বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ নিয়ে গবেষণায় হৃদ্‌স্বাস্থ্যের সম্ভাব্য উপকারের কথা উঠে এসেছে। নিয়মিত কালো চা পান রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যক্রম ও কিছু হৃদ্‌স্বাস্থ্য সূচকের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরলের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে চাকে বিবেচনা করা যাবে না।

ত্বকের জন্যও উপকারী

লিকার চায়ের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়তে সহায়তা করতে পারে। ফলে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এটি ত্বকের জন্যও কিছুটা উপকারী হতে পারে।

এ ছাড়া চায়ে অতিরিক্ত চিনি ও দুধ না দিলে বাড়তি চিনি ও ক্যালরি গ্রহণ কমে। তাই মিষ্টি চায়ের পরিবর্তে লিকার চা বেছে নেওয়া অনেকের জন্য ভালো অভ্যাস হতে পারে।

সতেজ থাকতে সাহায্য করে

কালো চায়ে থাকা ক্যাফেইন সাময়িকভাবে সতর্কতা, মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। ফলে সকালে এক কাপ লিকার চা ঘুমঘুম ভাব কাটিয়ে কাজে মনোযোগী হতে সহায়ক হতে পারে।

মানসিক সতেজতায় ভূমিকা

ক্যাফেইনের পাশাপাশি চায়ে থাকা এল-থিয়ানিনের মতো উপাদান নিয়েও মানসিক সতর্কতা ও মনোযোগের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গবেষণা হয়েছে। এ কারণে অনেকের কাছে সকালের এক কাপ চা শুধু পানীয় নয়, বরং দিনের শুরুতে মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার একটি অভ্যাস।

যেভাবে খাবেন

লিকার চা স্বাস্থ্যকর রাখতে অতিরিক্ত চিনি না দেওয়াই ভালো। খুব ঘন করে চা তৈরি না করে পরিমিত পরিমাণে পান করা উচিত। চায়ে ক্যাফেইন থাকায় অতিরিক্ত পান করলে ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা বা বুক ধড়ফড়ের মতো সমস্যা হতে পারে। ক্যাফেইনে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের এ বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

সবশেষে মনে রাখতে হবে, সুস্থ থাকার জন্য কোনো একক পানীয়ের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি, নিয়মিত শরীরচর্চা ও পর্যাপ্ত ঘুম—সামগ্রিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য এগুলোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

শেয়ার করুন



এ জাতীয় আরো খবর..