ইউরোপে তীব্র গরম ও খরার প্রভাব পড়ছে কৃষিতে। ফসল উৎপাদন ধরে রাখতে কাজের সময় পরিবর্তন করছেন কৃষকরা। দিনের বদলে অনেকেই এখন মাঠে নামছেন রাতে। কেউ আবার গবাদিপশুর খামার ঠাণ্ডা রাখার নতুন ব্যবস্থা করছেন। ফসলের জমিতে ব্যবহার করছেন ‘শ্যাডো নেট’ বা ছায়ার জাল। পরিবর্তন আনছেন বীজ বোনা ও ফসল কাটার সময়সূচিতেও। খবর এফটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপজুড়ে একদিকে অতিরিক্ত গরম এবং খরার কারণে ফসলের ফলন কমছে ও মান নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে সেচে অতিরিক্ত পানি ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ছে। আবার গবাদিপশুকে ঠাণ্ডা রাখতে ব্যবস্থা করতে হচ্ছে ফ্যান ও পানির। এসব কারণে কৃষকদের খরচও বাড়ছে। পাশপাশি দিনের গরম এড়াতে রাতে ফসল কাটছেন কৃষকরা।
ইংল্যান্ডের বার্কশায়ারের কৃষক এলিনর গিলবার্টের পরিবারও এখন রাতে ফসল কাটছে। রাত ২টার দিকে খামারের মাঠে আলো জ্বেলে কাজ শুরু করেন ২৪ বছর বয়সী এ কৃষক। তিনি জানান, মূলত রেপসিড বা তেলবীজ কাটার জন্য এ সময় বেছে নেয়া। কারণ রাতের শিশিরে ফসলের আর্দ্রতা ক্রেতার চাহিদামতো থাকে।।
সকাল ১০টার দিকে রেপসিডের কাজ শেষ করে গম কাটতে শুরু করেন গিলবার্ট। দিনে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পর মাত্র দুই-তিন ঘণ্টা ঘুমান। এরপর ফের রাতে মাঠে নামেন।
গিলবার্ট পরিবার জানায়, ক্রেতারা ৬ শতাংশের কম আর্দ্রতার ফসল নিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন। তাই তারা রাত ২টার দিকে ফসল কাটছে। এতে রাতের শিশিরের কারণে ফসলের আর্দ্রতা প্রায় ৭ শতাংশে ওঠে। ফলে তা বিক্রির উপযোগী থাকে।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশের কৃষকরাও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি। স্পেনের মাদ্রিদের আশপাশে আলুচাষীরা সূর্য ডোবার পর ফসল তোলেন। তারা জানান, দিনের প্রচণ্ড গরমে মাটি থেকে আলু তোলার সময় এর মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ইতালির পুগলিয়া অঞ্চলের কৃষক পিয়েত্রো চিফারেলিও এখন রাতের আঁধারে ফসল কাটেন।
শস্য ও ডালজাতীয় ফসল চাষ করেন ৬০ বছর বয়সী চিফারেলি। তার ভাষায়, সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা বা ৭টা পর্যন্ত মাঠে কাজ করা প্রায় অসম্ভব। এতটাই গরম যে ধাতব যন্ত্রে হাত দিলে হাত পুড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়। এছাড়া দিনের গরমে ছোলার শুঁটি অতিরিক্ত শুকিয়ে যায়। ফলে গাছে হাত দিলেই বীজ ছড়িয়ে পড়ে। রাতে ফসল ঠাণ্ডা হওয়ার পর তা কাটলে ক্ষতি কিছুটা এড়ানো যায়।
রাতে ফসল কাটার আরেকটি সুবিধার কথা জানান কৃষকরা। এতে আগুনের ঝুঁকিও কিছুটা কমে। অতিরিক্ত শুকনো মাঠে দিনের গরমে কৃষিযন্ত্র থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। গিলবার্টের পরিবার এখন মাঠে পানি বহনের বড় ট্যাংক রাখছে। পাশাপাশি আগুনের পথ আটকাতে কাছে চাষের যন্ত্রও প্রস্তুত রাখছে।
ইউরোপের কৃষিতে জলবায়ুজনিত ক্ষতির চিত্র বেশ বড়। বীমা প্রতিষ্ঠান হাউডেন ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের জন্য করা এক গবেষণায় দেখেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কৃষিতে প্রতি বছর জলবায়ুজনিত দুর্যোগে প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি ইউরোর ক্ষতি হয়। এর বেশির ভাগই বীমার আওতায় নেই।
এদিকে তাপমাত্রা বাড়ার কারণে শুধু উৎপাদনের পরিমাণ নয়, ফসলের মানও কমছে। কৃষকরা জানান, শস্যে প্রোটিনের পরিমাণ কমে গেলে তা উচ্চমূল্যের বাজারে বিক্রি করা যায় না। তখন কম দামের বাজারে বিক্রি করতে হয়।
এ জাতীয় আরো খবর..